

ভয়াবহ চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। কিন্তু সাত বছরেও এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার শেষ হয়নি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পায়নি ন্যায়বিচার কিংবা প্রতিশ্রুত সহায়তা।
২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজার থানার চুড়িহাট্টা মোড়ে চারতলার ওয়াহেদ ম্যানশন নামে একটি ভবন থেকে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। গায়ে গায়ে লাগানো ভবনগুলোতে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক ও পারফিউমের দোকান ও গুদামের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। ওই রাতে চুড়িহাট্টা এলাকায় ছিল তীব্র যানজট। রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও পথচারীতে ঠাসা সড়কে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুন ছড়িয়ে পড়লে দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ে মানুষ। অনেকেই বুঝে ওঠার আগেই আগুনে পুড়ে প্রাণ হারান।
ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট প্রায় ১৪ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে শ্মশানে পরিণত হয় পুরো এলাকা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৬৭ জনের পোড়া মরদেহ, পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১ জনে। দোকানপাট, রিকশা-গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়।
প্রথমদিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও তদন্তে উঠে আসে, আগুনের উৎপত্তি হয়েছিল ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলা থেকে। সেখানে দোকানের পাশাপাশি ছিল বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও প্রসাধন সামগ্রীর গুদাম। এসব ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রীই আগুনকে দ্রুত দাবানলে রূপ দেয়।
কিন্তু এত বড় ট্র্যাজেডির সাত বছর পরও আইনি প্রক্রিয়া কার্যত অচল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটি এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়েই আটকে আছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় ১২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিরা সবাই জামিনে মুক্ত থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক থেকে স্বজনহারা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হলেও তারা এক টাকাও পাননি। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টা চৌরাস্তায় দোয়া মাহফিল ও আত্মার শান্তি কামনার মধ্য দিয়েই দিনটি পালন করছেন তারা।
চুড়িহাট্টায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশিক উদ্দিন সৈনিক বলেন, দীর্ঘ সাত বছরেও বিচার না পাওয়ায় আমরা চরম হতাশ। মাঝখানে সরকার পরিবর্তনের কারণে মামলার কার্যক্রম থমকে ছিল। আমরা নতুন সরকারের কাছে আবারও দাবি জানিয়েছি, রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে গচ্ছিত ৩০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। মামলাটি পিবিআইর মাধ্যমে পুনঃতদন্ত করে দ্রুত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।