কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আগুনে ৭১ মৃত্যুর বিচার হয়নি সাত বছরেও

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি দিবস আজ
ছবি :  সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। কিন্তু সাত বছরেও এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার শেষ হয়নি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পায়নি ন্যায়বিচার কিংবা প্রতিশ্রুত সহায়তা।

২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজার থানার চুড়িহাট্টা মোড়ে চারতলার ওয়াহেদ ম্যানশন নামে একটি ভবন থেকে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। গায়ে গায়ে লাগানো ভবনগুলোতে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক ও পারফিউমের দোকান ও গুদামের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। ওই রাতে চুড়িহাট্টা এলাকায় ছিল তীব্র যানজট। রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও পথচারীতে ঠাসা সড়কে হঠাৎ বিকট শব্দে আগুন ছড়িয়ে পড়লে দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ে মানুষ। অনেকেই বুঝে ওঠার আগেই আগুনে পুড়ে প্রাণ হারান।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট প্রায় ১৪ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে শ্মশানে পরিণত হয় পুরো এলাকা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৬৭ জনের পোড়া মরদেহ, পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১ জনে। দোকানপাট, রিকশা-গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়।

প্রথমদিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও তদন্তে উঠে আসে, আগুনের উৎপত্তি হয়েছিল ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলা থেকে। সেখানে দোকানের পাশাপাশি ছিল বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও প্রসাধন সামগ্রীর গুদাম। এসব ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রীই আগুনকে দ্রুত দাবানলে রূপ দেয়।

কিন্তু এত বড় ট্র্যাজেডির সাত বছর পরও আইনি প্রক্রিয়া কার্যত অচল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটি এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়েই আটকে আছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় ১২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিরা সবাই জামিনে মুক্ত থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক থেকে স্বজনহারা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হলেও তারা এক টাকাও পাননি। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টা চৌরাস্তায় দোয়া মাহফিল ও আত্মার শান্তি কামনার মধ্য দিয়েই দিনটি পালন করছেন তারা।

চুড়িহাট্টায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশিক উদ্দিন সৈনিক বলেন, দীর্ঘ সাত বছরেও বিচার না পাওয়ায় আমরা চরম হতাশ। মাঝখানে সরকার পরিবর্তনের কারণে মামলার কার্যক্রম থমকে ছিল। আমরা নতুন সরকারের কাছে আবারও দাবি জানিয়েছি, রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে গচ্ছিত ৩০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। মামলাটি পিবিআইর মাধ্যমে পুনঃতদন্ত করে দ্রুত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোজতবা খামেনির জন্য ‘বিশেষ চিঠি’ নিয়ে ইরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যে কারণে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে গিয়েও বারবার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

কমলো জেট ফুয়েলের দাম

রাজধানীতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ছিনতাই

নোয়াখালীতে আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ

ছাঁটাই শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবি ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের

স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে স্বামীর আত্মহত্যা

সংসদে তোফায়েল আহমেদসহ সাবেক ১৬ এমপি-মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব

সিগারেট খেতে বাঁধা দেওয়ায় খুন

ইউরোপজুড়ে জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত করছে রুশ স্যাটেলাইট

১০

আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ

১১

শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ককরোচ পার্টির আন্দোলন চলবে

১২

জাতীয় সংসদে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী ঘোষণা

১৩

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১৪

১০ বছরের শিশুকে ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্তকে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ

১৫

৪ বার সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া প্রতিষ্ঠান জানাল ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন কে

১৬

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু / মারা যাওয়া প্রত্যেক শিশুর পরিবার পাবে ৮০ লাখ টাকা : শিশির মনির

১৭

শাকিব বুবলীর দ্বিতীয় সন্তানের আগমন ঘটল কোথায়?

১৮

লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া দিল এলাকাবাসী

১৯

এমপিওর দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষকদের পানি-স্যালাইন দিলো ছাত্র জমিয়ত

২০
X