

সিলেটের সাদাপাথর লুটের অভিযোগ প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগটি দুদকের সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘সিলেটে সাদাপাথর লুটের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য কমিশনের অনুমোদন হয়েছে। লিখিত আদেশ সিলেটে পৌঁছামাত্র দুদকের সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয় কাজ শুরু করবে।’
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পাথর লুটের বিষয়টি দুদক অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে। যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করেছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে জড়িত প্রত্যেকের দায় নির্ধারণ করবে। এরপর যাদের দায় পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে দুদকের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ১৩ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয় সাদাপাথরে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দলটি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠায়। প্রতিবেদনে তারা পাথর লুটের সঙ্গে জড়িতদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে সুপারিশ করে। দুদকের অভিযান চালানোর পরপরই ওই দিন সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসে সিলেট জেলা প্রশাসন। এরপর সেদিনই মধ্যরাত থেকে পাথর উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। সম্প্রতি সিলেট জেলা প্রশাসন ২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধারের দাবি করেছে।
এদিকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদকের প্রতিবেদন ও কালবেলার নিজস্ব অনুসন্ধানে গত ২১ আগস্ট ‘সিলেটের সাদাপাথর লুট, ৮০ কোটি টাকা কমিশন ডিসি-এসপির দপ্তরে’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেটের পাথর লুটপাটে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সঙ্গ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রায় সব স্তরের কর্মকর্তারা। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং কোম্পানীগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত চারজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরাসরি মদদ ছিল পাথর লুটপাটে। এ ছাড়া টাকার ভাগ পেয়েছেন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের বিশেষ ইউনিট পুলিশ ইন্টার্নাল ওভারসাইটের (পিআইও) দুজন কর্মকর্তা। পুলিশকে ট্রাকপ্রতি ১০ হাজার টাকা দেওয়া হতো তিনটি শর্তে। স্থানীয় বিজিবির সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে। সব মিলিয়ে ৪ কোটি ঘনফুট পাথর লুটপাটে প্রায় ৮০ কোটি টাকা কমিশন ঢুকেছে স্থানীয় প্রশাসনের পকেটে। যদিও সিলেট জেলা প্রশাসন ও এসপি তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীসহ ৪২ জন সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পায় দুদক।