সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৩০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে রোগীর নিরাপত্তায় কাজ করতে হবে

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে রোগীর নিরাপত্তায় কাজ করতে হবে

রোগীর নিরাপত্তায় চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সেইসঙ্গে রোগী ও তার স্বজনদের সচেতন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক কালবেলা কার্যালয়ে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও কালবেলা যৌথভাবে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেন।

দৈনিক কালবেলার উপসম্পাদক দীপঙ্কর লাহিড়ীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের বায়োটেক প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ সাল সাবিলা জেরিন। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক এবং ন্যাশনাল ফার্মাকোভিজিলেন্স সেন্টারের প্রধান ড. মো. আকতার হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজিস্ট ও অনকোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল করিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রাক্তন লাইন ডিরেক্টর (এমএনসি অ্যান্ড এএইচ) ডা. এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রাক্তন ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (এমএনসি অ্যান্ড এএইচ) ডা. মো. জহুরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাকিবা ইয়াসমিন, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম মাহমুদুল হক পল্লব, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ফার্মাকোভিজিলেন্স অ্যান্ড এমএসডি বিভাগের প্রধান ডা. রুবাইয়া হুদা, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ফার্মাকোভিজিল্যান্সের এক্সিকিউটিভ মো. শাইখ আফছার ফাহিম, বীকন ফার্মাসিটিক্যালসের এমএসডি বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডা. সুমাইয়া-ই-নূর ইতি, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের বায়োস্ট্যাটিস্টিশিয়ান আমিরুল আল রাফি প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একটি পদক্ষেপ নিতে খুঁজছিল কীভাবে মানুষকে আরও সচেতন রাখা যায়। ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সভায় একটি রেজল্যুশনের মাধ্যমে দিনটিকে বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর বাংলাদেশেও এ দিবসটি শুরু থেকেই পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এই দিবসটি আলোচনায় আসা অনেক জরুরি।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক এবং ন্যাশনাল ফার্মাকোভিজিলেন্স সেন্টারের প্রধান ড. মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন রোগ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাই, চিকিৎসক সমস্যার কথা শুনে ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লেখেন। কিন্তু আমরা অবহেলা করি, ঠিকমতো ওষুধ খাই না। এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সুস্থ হতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রাক্তন লাইন ডিরেক্টর (এমএনসি অ্যান্ড এএইচ) ডা. এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ‘দেশে নবজাতকের মৃত্যুহার অনেকটা কমেছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি আরও বাড়াতে হবে। জন্মের পর নবজাতককে মায়ের বুকের শালদুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিতে হবে। তিন দিনের মধ্যে শিশুকে গোসল করতে নিষেধ করা ইত্যাদি ব্যবস্থা নিলে নবজাতক মৃত্যুহার কমানো যাবে। এগুলো নিয়ে আমাদের বেশ কিছু ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাকিবা ইয়াসমিন বলেন, ‘ফার্মাকোভিজিলেন্স এনশিওর করা কারও একার পক্ষে সম্ভব না। ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা ডাক্তারদের পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম মাহমুদুল হক পল্লব বলেন, দেশে সব রেগুলেটরি বডির মধ্যে ঔষধ প্রশাসন সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি করে থাকে নিরাপদ ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে। আমরা এই শিল্প সংশ্লিষ্টরা ঔষধ প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে উৎপাদন করি বলেই আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের ওষুধ বিশ্বের দরবারে। আমাদের স্ট্যাবিলিটি টেস্টে পাস না হলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদন করে না। তাই চাইলেও কেউ ম্যানিউপুলেশন করতে পারব না। ফলে দিন শেষে ওষুধ কোম্পানি হিসেবে আমরা মানসম্মত ওষুধ বাজারজাত করি। বিদেশি কোম্পানির বাইরে দেশের একমাত্র কোম্পানি হিসেবে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ফার্মাকোভিজিলেন্স টিম আছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, পেশেন্ট সেফটি এই আলোচনাটা অনেক পুরোনো। ডব্লিউএইচও ২০১৯ সালে এটি শুরু করে। প্রথমে পেশেন্ট সেফটি শুরু হয় হ্যান্ড হাইজিংয়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে সক্রিয় চিকিৎসক রয়েছেন ৮০ থেকে ৯০ হাজার, যা ১৮ কোটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েট হবে। এতে আরও ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলো। এতে রোগীদের আরও চড়া মূল্যে ওষুধ কিনতে হবে। এসব বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে কীভাবে দেশের ওষুধ শিল্প খাতকে রক্ষা করা যায় এবং রোগীদের স্বল্পমূল্যে ওষুধ দেওয়া যায়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইসরায়েলজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি

ভূমিকম্পের সময় যে দোয়া পড়বেন

বাসচালককে মারধর ও ছাত্রদল কর্মীকে কোপানোর অভিযোগ  

দেশের যেসব জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল যেখানে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই শিশুর

চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি

আরও বাড়ল ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়

লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে আবারও যুদ্ধে নামব : ইরান

‘বিশ্ব এলপিজি দিবস-২০২৬’ উদযাপন করল ফ্রেশ এলপি গ্যাস

১০

আর্জেন্টিনা যেন মিনি হাসপাতাল!

১১

বিশ্বকাপ এলেই রং বদলান নেইমার

১২

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন জামায়াত আমির

১৩

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠু

১৪

বিশ্বকাপে সেদিন আবির্ভাব হয়েছিল এক ‘ফুটবল দেবতার’, নাম তার ম্যারাডোনা

১৫

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার

১৬

বাজেট ২০২৬-২৭ / মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা চান বিশেষজ্ঞরা

১৭

সেই তিন ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে জমা হলো ১২ লাখ টাকা

১৮

চমেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, ইনডোর ও আউটডোর শাটডাউনের হুঁশিয়ারি

১৯

এনসিপির ফল উৎসবে হামলা

২০
X