

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল ফের চালু করার লক্ষ্যে অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছেছেন দেশটির সিনেটররা। এ সমঝোতার ফলস্বরূপ সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম অচলাবস্থা বা শাটডাউন অবসানের পথ খুলেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, শাটডাউনের পুরোপুরি অবসান ঘটাতে সিনেটে পাস হওয়া বিলটির এখন প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন পেতে হবে।
৪০ দিনের এ শাটডাউনের কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতনবিহীন ছুটিতে ছিলেন বা অনেকে বেতন ছাড়া কাজ করছিলেন। এ অচলাবস্থার কারণে দেশটির নিম্ন-আয়ের ৪১ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হয়। এ ছাড়া কর্মী সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল ব্যবস্থায়ও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। বাতিল হয় হাজারো ফ্লাইট।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা কাটাতে ওয়াশিংটনে সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পর ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল ফের চালু করতে সিনেটে বিল পাস হয়, যা শাটডাউন অবসানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি। এতে চলমান অচলাবস্থা থ্যাংকস গিভিংয়ের ছুটি পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিনেটে এ অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, সরকারের অচলাবস্থা শিগগির শেষ হতে যাচ্ছে।’
অচলাবস্থার অবসানে সিনেটে বিল পাস হওয়ায় ফেডারেল কর্মীরা তাদের শাটডাউনের সময়ের বকেয়া বেতন পাবেন এবং সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির জন্য তহবিল ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চালু থাকবে।
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর সমঝোতা: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল বরাদ্দের শেষ দিন ছিল গত ১ অক্টোবর। ওইদিন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা অর্থবিল পাস করার বিষয় একমত হতে না পারায় তৈরি হয় সংকট, যা চলেছে টানা ৪০ দিন ধরে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে। ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫৩ আসন) হলেও অর্থবিল পাসে প্রয়োজন অন্তত ৬০ ভোটের। ফলে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের সমর্থন ছাড়া এ বিল পাস হওয়ার সুযোগ নেই। এমন বাস্তবতায় ওয়াশিংটনে সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পর অবশেষে ৬০ থেকে ৪০ ভোটে গতকাল রোববার সিনেটে বিলটি পাস হয়। এদিন ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্তো, ডিক ডার্বিন, জন ফেটারম্যান, টিম কেইন, ম্যাগি হাসান, জ্যাকি রোজেন, জিন শাহিন ও স্বতন্ত্র সিনেটর অ্যানগাস কিং বিলটির পক্ষে ভোট দেন। এর মধ্য দিয়ে অচলাবস্থা কাটার পথ খুলল। এখন প্রতিনিধি পরিষদ বিলটিতে অনুমোদন দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করলেই অচলাবস্থার পুরোপুরি অবসান হবে।
সিনেটে পাস হওয়া বিলে যা আছে: সিনেটে পাস হওয়া এ বিলটিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিলটি পাস হওয়ায় আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। যার মানে হলো, ২০২৪ সালের শুরুতে আবারও একটি শাটডাউনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া শাটডাউনের সময় যেসব ফেডারেল কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করেছেন বা ছুটিতে ছিলেন, তাদের সবাইকে বকেয়া বেতন দেওয়ার নিশ্চয়তার বিষয়টি আছে পাস হওয়া বিলে। ফেডারেল কর্মী ইউনিয়নগুলোর জন্য এটি একটি বড় জয়। এর পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাফোর্ডেবেল কেয়ার অ্যাক্টের প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট ভর্তুকির মেয়াদ বাড়ানো যে দাবি ডেমোক্র্যাটরা জানিয়ে আসছিলেন, তা মেনে নেওয়া হয়েছে। এতে লাখ লাখ আমেরিকান ভর্তুকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবীমা কিনতে সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া এ বিলে সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত আমেরিকানদের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে কর্মী ছাঁটাই না করার জন্য শর্তারোপ করা হয়েছে, যার অর্থ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মী কমানোর উদ্যোগ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
এরপর কী: সিনেটে বিলটি পাস হওয়া সত্ত্বেও এটি শাটডাউন অবসানের শুধু প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ। সরকারের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালু করতে হলে বিলটিকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে যেতে হবে। সেখানে বিলটি পাসের জন্য আবারও ভোটের প্রয়োজন। প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেখানে বিলটি পাসে জটিলতা তৈরি হওয়ার কথা নয়।