রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিবিএস সার্ভে

ঘুষ দেওয়ায় শীর্ষে নোয়াখালী

ঘুষ দেওয়ায় শীর্ষে নোয়াখালী

যে কোনো সরকারি সেবা নিতে দেশের অতি ধনীরা সবচেয়ে বেশি ঘুষ দেন, আর ঘুষ প্রদানে শীর্ষে রয়েছেন নোয়াখালীর মানুষ। সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ। এই প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে অন্তত ৬৩.২৯ শতাংশ নাগরিক দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৫৭.১৬ শতাংশ এবং পাসপোর্ট অফিস ৫৭.৪৫ শতাংশ। বিবিএসের সিটিজেন পারসেপশন সার্ভের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটোরিয়ামে এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিবিএস ডিজি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ৬-২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সময়ে দেশব্যাপী ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস)’ পরিচালনা করে। ৬৪ জেলার এক হাজার ৯২০টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) থেকে ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানার ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন উত্তরদাতার (পুরুষ: ৩৯ হাজার ৮৯৪, নারী: ৪৪ হাজার ৯১৩) সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদন বলছে, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক গত ১২ মাসে কোনো না কোনো সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সরাসরি ঘুষ দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। ঘুষ দেওয়ার মধ্যে পুরুষের হার ৩৮.৬২ শতাংশ, নারীদের ২২.৭১ শতাংশ। প্রায় ৯৮.৪৮ শতাংশ জনগণ ঘুষ হিসেবে ‘টাকা’ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

জরিপের তথ্য বলছে, নোয়াখালী জেলার ৫৭ শতাংশ মানুষ ঘুষ দেন, কুমিল্লার ৫৩ শতাংশ এবং ফরিদপুরের ৫১ শতাংশ মানুষ ঘুষ দেন। সবচেয়ে কম ঘুষ দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ। এ জেলার মাত্র ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ মানুষ ঘুষ দেন।

জরিপে দেখা যায়, দেশের ৮৪.৮১ শতাংশ নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ বাসার আশপাশের এলাকায় একা চলাফেরা করতে নিরাপদ বোধ করেন। এ নিরাপত্তাবোধ পুরুষের (৮৯.৫৩%) তুলনায় নারীদের (৮০.৬৭%) বেশ কম। সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে নিরাপত্তাবোধের হার তুলনামূলকভাবে বেশি (৯২.৫৪%)।

সুশাসনের বিষয়ে, মাত্র ২৭.২৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে, তারা সরকারি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে এই হার আরও কমে ২১.৯৯ শতাংশে নেমে আসে। জাতীয়ভাবে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৪.৬২%) জনগণ মনে করেন যে, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাড়াপ্রবণ। এ বিষয়ে পল্লি (২৪.৪৭%) ও শহরের (২৪.৯১%) জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় কোনো পার্থক্য নেই।

গত ১২ মাসে সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, জাতীয়ভাবে ৪৭.১২ শতাংশ জনগণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া ৪০.৯৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে, তাদের অন্তত একটি সন্তান সরকারি বিদ্যালয়ে (প্রাথমিক/ মাধ্যমিক) পড়াশোনা করেছে। তদুপরি, ৭৩.৭৭ শতাংশ জনগণ অন্যান্য সরকারি সেবা (পরিচয়পত্র/নাগরিক নিবন্ধন) গ্রহণের অন্তত একটি প্রচেষ্টা করেছেন। এ সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে পাঁচটি মাত্রার ভিত্তিতে দেখা যায় যে, স্বাস্থ্যসেবায় সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার ৭২.৬৯ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ৮১.৫৬ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় ৭৮.১৮ শতাংশ ও অন্যান্য সরকারি সেবায় (পরিচয়পত্র/নাগরিক নিবন্ধন) ৬৬.৯১ শতাংশ সন্তুষ্টির হার রিপোর্ট করা হয়েছে।

জাতীয়ভাবে প্রায় ১৬.১৬ শতাংশ জনগণ গত দুই বছরে কোনো বিবাদ বা বিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ (৮৩.৬০%) জনগণ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আনুষ্ঠানিক (যেমন: আদালত) অথবা অনানুষ্ঠানিক (যেমন: কমিউনিটি নেতা) কোনো না কোনো ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪১.৩৪ শতাংশ আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবং ৬৮.৯৬ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন।

ফলাফল অনুযায়ী দেশের ১৯.৩১ শতাংশ জনগণ কোনো না কোনো ধরনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বৈষম্যের প্রধান ভিত্তি ছিল আর্থ-সামাজিক অবস্থা (৬.৮২%) এবং লিঙ্গ (৪.৪৭%)। বৈষম্যের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে নিজের পরিবারের মধ্যে (৪৯.৭২%), গণপরিবহন/উন্মুক্ত স্থানে (৩৪.৮২%) এবং কর্মস্থলে (২৪.৮৫%)। মাত্র ৫.৩৭ শতাংশ ভুক্তভোগী এসব ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করেছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয় : ছাত্রদল নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

সকাল ৯টার মধ্যে ১৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের চালকসহ গ্রেপ্তার ৩ জনের জামিন

৩৫.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড / সিলেটে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নাহিদ ইসলামের বৈঠক

মধ্যরাতে দেশে পৌঁছাবে লেবাননে নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ

শেষ মুহূর্তে বড় ধাক্কা, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের বিশ্বকাপ শেষ

১০

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ অটোরিকশা যাত্রীর

১১

রোগীকে আটকে ইনজেকশন পুশের টাকা দাবি, নার্সকে শোকজ  

১২

গৃহকর্মী থেকে মন্ত্রী : কলিতা মাঝির উত্থানের গল্প

১৩

নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করল চসিক

১৪

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকার, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

১৫

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

১৬

ব্রাজিলের সামনে এবার মিসর

১৭

আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর

১৮

ফ্ল্যাটে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

১৯

সিলেটের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : সিসিক প্রশাসক

২০
X