

চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি ছাড়া সবকটিতে জামায়াতের ভরাডুবি হয়েছে। যদিও চট্টগ্রামে জামায়াত জোট কমপক্ষে ৭টি আসন পাবে বলে তাদের প্রত্যাশা ছিল। সেখানে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছে তারা। মূলত জামায়াত এখানে গণমুখী নেতৃত্ব তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা তাদের ভরাডুবির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শাহজাহান চৌধুরী, হামিদ আজাদ, শামসুজ্জামান হেলালী, অধ্যক্ষ নুরুল আমিন ছাড়া প্রার্থীর তালিকায় অন্য কেউ পরিচিত প্রার্থী ছিলেন না। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালী আসনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১০ আসনটিকেও নিশ্চিত আসন বলে ধরে নিয়েছিল দলটি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে ডা. আবু নাছের বেশ পরিচিত মুখ হলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতের জোটের ‘টানাটানি’ দাঁড়িপাল্লার ভোট কমিয়েছে। এ আসনে চমক দেখিয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ‘মোমবাতি’ প্রতীক প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান।
ভরাডুবির কারণ হিসেবে দলের সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ও ইসলামী ফ্রন্টের ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। চট্টগ্রামে শক্ত ঘাঁটি থাকলেও প্রভাবশালী এই সংগঠনটির ভোটের মাঠের দুরবস্থার নেপথ্যে বৃহত্তর সুন্নি জোট ও হাতপাখার প্রার্থীরা ভোটে ভাগ বসানোকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। উত্তর চট্টগ্রামের একটি আসনেও ভালো করতে পারেনি তারা। এলাকাভিত্তিক সামাজিক ক্লাব, সংগঠন, মসজিদ, মাদ্রাসা পরিচালনাকারীদের নিয়ে বিএনপি ভোটারদের ম্যানেজ করার চমক দেখিয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম শহরের চার আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে জামায়াত মুনশিয়ানা দেখাতে পারেনি। নগরীতে হেলালীর আসনে জামায়াতের পক্ষে প্রচারণায় স্থানীয়দের তেমন ভেড়াতে পারেনি।
চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে শহরের চারটি ও উত্তর চট্টগ্রামের প্রতিটি আসনেই তাদের ভরাডুবি হয়েছে। শুধু সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এবং বাঁশখালী আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াত প্রার্থীরা। পটিয়ায় জামানত হারিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। জোটে থাকা এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নিজ আসনে তার ছেলে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরেছেন। জামায়াত ঠেকাতে অনেকে নিজেদের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।
জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, চট্টগ্রামের মানুষ ধর্মপরায়ণ। বিশেষ করে এখানে কওমি আলেমদের পাশাপাশি তরিকতপন্থিদের ভালো অবস্থান রয়েছে। বিএনপি এ বিষয়টিকেই কাজে লাগিয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের একটি অংশও বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জামানত হারিয়েছেন। এখানে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী দ্বিতীয় অবস্থান দখল করেছেন।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ৭৫ হাজার ৫৪২ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম। তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এস এম শাহজাহান ‘মোমবাতি’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩০।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের ডা. এটিএম রেজাউল করিম।
বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি জামায়াতের প্রার্থী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর শফিউল আলম। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) আসনে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নোমানপুত্র সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে হয়েছেন জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা শামসুজ্জামান হেলালী।
জোটের কারণে জামায়েতের ভরাডুবি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম-১০ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের জামায়াত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী কালবেলাকে বলেন, ‘সবকিছু নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ। উত্তম ফয়সালাকারী আল্লাহ। তবে জোটের কারণে আমরা বা আমাদের কী হয়েছে না হয়েছে সে বিষয়ে আমি মন্তব্যে জড়াতে চাই না।’