

কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু স্কোরবোর্ডে আটকে থাকে না—সেগুলো বেঁচে থাকে মানুষের স্মৃতিতে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ইংল্যান্ড আর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ লড়াই ঠিক তেমনই। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুই দল ফের মুখোমুখি হতে চলেছে, আর এই খবরেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে উঠছে চার দশকের পুরোনো সব উত্তেজনা।
‘হ্যান্ড অব গড’: এক চিরস্থায়ী বিতর্ক
গল্পের শুরুটা ১৯৮৬ সালে, মেক্সিকোর মাটিতে। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচ গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে যায় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লড়াইয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনা নিজের বাঁ হাত ব্যবহার করে বল জালে পাঠান রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে। পরে নিজেই মজা করে একে বলেছিলেন ‘ঈশ্বরের হাতের ছোঁয়া’। সেই থেকেই এই নামে পরিচিত ঘটনাটি ইংল্যান্ডের কাছে আজও এক না-শুকানো ক্ষত।
শতাব্দীর সেরা গোল ম্যারাডোনার
তবে বিতর্কের রেশ মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা দেখান কেন তাকে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের একজন বলা হয়—নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিয়ে করা সেই একক গোল পরে ফিফার বিচারে হয়ে ওঠে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’।
লাল কার্ড: একরাশ হতাশা
বারো বছর পর, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে গল্পের কেন্দ্রে আসেন এক তরুণ ডেভিড বেকহাম। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে মুহূর্তের রাগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি, আর দশজনের ইংল্যান্ড টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। রাতারাতি এক তারকা পরিণত হন জাতীয় প্রতীকী ব্যর্থতায়।
মাইকেল ওয়েনের রাজকীয় আগমন
অথচ সেই একই ম্যাচে আরেক ইংলিশ তরুণ লিখেছিলেন উল্টো গল্প। মাত্র আঠারো বছর বয়সী মাইকেল ওয়েন মাঝমাঠ থেকে বল টেনে আর্জেন্টাইন রক্ষণ চিরে করা গোলে জানান দেন নতুন প্রতিভার আগমন—যিনি কয়েক বছরের মধ্যেই জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর।
বেকহামের প্রায়শ্চিত্ত ও উদযাপন
সবচেয়ে আবেগঘন মোড়টা আসে ২০০২ সালে। ততদিনে ইংল্যান্ডের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বেকহামের হাতে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পেনাল্টি পায় দল, বল হাতে তুলে নেন তিনিই। চার বছরের জমে থাকা অপমান, চাপ আর প্রত্যাশা নিয়ে নেওয়া সেই শট জালে জড়াতেই পুরো স্টেডিয়াম যেন একসঙ্গে নিঃশ্বাস ফেলে। গোলের পর তার জার্সি খামচে ধরা উদযাপন ছিল শুধু আনন্দ নয়, ছিল বছরের পর বছর বয়ে বেড়ানো এক বোঝা নামানোর মুহূর্ত।