কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিয় অভিভাবকের দেশপ্রেম হোক দেশগড়ার শক্তি

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান
প্রিয় অভিভাবকের দেশপ্রেম হোক দেশগড়ার শক্তি

পৌষের মিষ্টি সকাল। কুয়াশার চাদর সরিয়ে পূর্ব দিগন্তে সবেমাত্র উঁকি দিয়েছে ঝলমলে সূর্য। প্রকৃতির এমন আড়ষ্টতা জড়ানো দিনেই যেন জেগে উঠল পুরো বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষের অপেক্ষার অবসান হলো। তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র—সবখানে সাজসাজ রব। দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ ভূমিতে পা রাখলেন এই বাংলার ভূমিপুত্র। যার বীরোচিত প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় একটি জাতি দীর্ঘদিন ধরে ছিল অপেক্ষমাণ। আজ তাকে বরণ করে নিতে লোকে-লোকারণ্য রাজপথ। পুষ্পমাল্যের চেয়েও দামি চোখের পানি। জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর আনন্দাশ্রুতে মায়ের কোলে ফিরে এলেন একজন সন্তান, একজন বাবা এবং একজন প্রিয় অভিভাবক। তিনি আর কেউ নন—এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের অতন্দ্র প্রহরী, একজন সেবক, একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক জননেতা তারেক রহমান।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন একটি অস্থির সময়ে। ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে শুধু রাজনীতি থেকেই নয়, চিরতরে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। দুর্নীতির মিথ্যা গালগল্প ছড়িয়ে তাকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আলাদা করার মিশন ছিল তাদের। এসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেই ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি দেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি জমান। ১৭ বছর ৩ মাস ১৪ দিনের প্রবাস জীবনে তিনি দল, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। দূরে থেকেও যেন খুব কাছের এক অতি প্রিয়জন। সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত তারেক রহমান ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সংকটেও দেশের প্রতি তার গভীর দায়িত্ববোধ কখনো ভুলে যাননি। বরং এ বিচ্ছেদ ও ষড়যন্ত্র তার দেশপ্রেমকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

লন্ডনে প্রবাস জীবনের দীর্ঘ সময়ে তিনি নিজ দল বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছেন। খুনি হাসিনার শাসনামলে বিএনপিকে ধ্বংস করার সব চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারেক রহমানের নেতৃত্বের নৈপুণ্যের কাছে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রভুদের চক্রান্ত। তিনি দিনরাত এক করে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তার নির্দেশনা ও পরামর্শে বিএনপি আজ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও গোছানো ও শক্তিশালী।

বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দমনপীড়নে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যখন পথহারা হয়ে পড়েছিল, তখন তারেক রহমানের নির্দেশনাই ছিল নিয়ামক শক্তি। একটি ভণ্ডুল হতে যাওয়া আন্দোলন কীভাবে সফল করতে হয়, তা তিনি তার ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন। তার এ নেতৃত্ব আজ সর্বজনস্বীকৃত।

তিনি ধারণ করেছেন কৃষকের স্বপ্ন, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও তারুণ্যের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। তাই তার রাজনৈতিক দর্শন ও বক্তব্য এতটা বাস্তবসম্মত, যেন মানুষের হৃদয়ের ভাষাই তিনি উচ্চারণ করেন।

তবে রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সতেরো বছরের প্রবাস জীবনে তারেক রহমান রাজনীতির যে গভীর অনুশীলন করেছেন, তার সুস্পষ্ট ছাপ পড়েছে রাষ্ট্রসংস্কারে গৃহীত বিএনপির ৩১ দফা প্রস্তাবনায়। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তার বক্তব্য ও বিবৃতিতে উঠে এসেছে নয়া বন্দোবস্তের বার্তা। পুরোনো রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনাকে পরিহার করে তিনি এরই মধ্যে নতুন দিনের রাজনীতি শুরু করেছেন। রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়া শিষ্টাচার ও পরমতসহিষ্ণুতাকে ফিরিয়ে এনে তিনি একসঙ্গে এই দেশ গড়তে চেয়েছেন। তিনিই স্লোগান তুলেছেন, টেক ব্যাক বাংলাদেশ। তিনিই বলেছেন, ব্যক্তির চেয়ে দল আর দলের চেয়েও দেশের শ্রেষ্ঠত্বের কথা। তার ছোট ছোট চিন্তা এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য-বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে একজন উদারনৈতিক নেতার প্রতিচ্ছবি—যিনি নিজে স্বপ্ন দেখেন এবং সেই স্বপ্ন সাধারণ মানুষের বুকে প্রোথিত করেন। কেননা, বুক থেকেই উৎসারিত হয় দেশপ্রেম আর দেশপ্রেম ছাড়া রাজনীতির কোনো মূল্য নেই।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে খুনি হাসিনার ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী আমল। তারুণ্যের প্রবল ঝড়ে উড়ে গেছে অহংকার ও দম্ভের রাজপ্রাসাদ। এ দেশের প্রতিটি মানুষের ভেতরে এখন রাজনীতির নতুন বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে প্রবল দেশপ্রেমের ঝড় বইছে, তারেক রহমান সেই দীক্ষা পেয়েছেন বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার কাছ থেকে। লন্ডনের প্রবাস জীবনে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এ স্বদেশপ্রেম আরও বহুগুণ বেড়েছে, কমেনি। স্বদেশের মাটিতে ফিরে এসে এই দেশপ্রেমই হোক তার দেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি। তিনি হয়ে উঠুন দল-মত নির্বিশেষে সব বাংলাদেশির একান্ত আস্থাভাজন ও প্রিয় নেতৃত্ব।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আপনার প্রতি রইল লাল গোলাপ শুভেচ্ছা ও বিপ্লবী অভিবাদন।

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান

গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি; মহাসচিব, ইউট্যাব; আহ্বায়ক, ঢাবি সাদা দল

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতি মাসে প্রকাশ হবে শাহজালাল মাজারের দানের হিসাব : ডিসি সারওয়ার

শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক

ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল পুলিশ কর্মকর্তার

আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই নতুন রেকর্ড গড়বেন মেসি

পদ্মা রেলসেতুর নিচের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি, কার ছত্রচ্ছায়ায় চলল এই কাণ্ড

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছা

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

সাকিবের পর এবার দীঘির ‘পল্টি’?

১০

বরিশালজুড়ে হাম পরিস্থিতির মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

১১

লটকন বাগান দেখাবে বলে ২ শিক্ষার্থীকে অপহরণচেষ্টা

১২

বকেয়া ৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করল সিসিক

১৩

যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়েছিল ভাসমান নৌকায়

১৪

বিদেশি নাগরিকদের হেনস্তা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

১৫

সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রাষ্ট্রদূত আনসারীর খোঁজ নিলেন ডা. রফিক

১৬

প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

১৭

বিসিপিএসের সভাপতি হলেন ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর

১৮

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি আরইউজের

১৯

ট্রাম্পের আবদারে নিয়ম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে ফিফা!

২০
X