

দীর্ঘ ১৮ বছর পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। বাংলাদেশ সফরে এসে জানালেন, আগামী ৩১ জুলাই প্রকাশ পাচ্ছে তার বহুল প্রতীক্ষিত অ্যালবাম ‘সুবাহ আয়ে না’। একই সঙ্গে ঢাকার কনসার্টেও গান করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন নতুন অ্যালবাম, বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা, কোক স্টুডিও, বাংলা গান গাওয়ার ইচ্ছা, দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজের পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের দর্শক ও খাবারের প্রতি নিজের বিশেষ টান নিয়ে। লিখেছেন রিয়েল তন্ময়
দীর্ঘদিন পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছেন। এই মুহূর্তের অনুভূতি কেমন?
দারুণ লাগছে। প্রায় ১৮ বছর পর নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করতে যাচ্ছি। এতদিন ধরে ভক্তরা নতুন অ্যালবামের জন্য অপেক্ষা করেছেন। অসংখ্য মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, কবে নতুন গান বা অ্যালবাম আসবে। অবশেষে ৩১ জুলাই ‘সুবাহ আয়ে না’ প্রকাশের মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।
এত বছর অ্যালবাম থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ কী ছিল?
মূলত ব্যস্ততা। সিনেমার গান, লাইভ কনসার্ট আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারফরম্যান্স নিয়েই সময় কেটে গেছে। নিজের মতো করে গান তৈরির সুযোগ খুব কম পেয়েছি। তবে এখন মনে হয়েছে, নিজের অনুভূতির গান নিয়ে আবার শ্রোতাদের সামনে আসার সময় হয়েছে।
আপনার কাছে একজন শিল্পীর স্বাধীনতা কোথায় বেশি—সিনেমার গানে, নাকি নিজের অ্যালবামে?
নিজের অ্যালবামেই সবচেয়ে বেশি। সেখানে নিজের অনুভূতি, নিজের ভাবনা প্রকাশ করা যায়। কিন্তু সিনেমার গান একটি গল্পের অংশ। পরিচালক, সুরকার ও দৃশ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী গান গাইতে হয়। তাই দুই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা ভিন্ন।
কোক স্টুডিও পাকিস্তানে আপনার গান ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কী শিখিয়েছে?
কোক স্টুডিও সব সময় নতুন কিছু করার জায়গা। সেখানে কাজ করাটা সহজ ছিল না, তবে খুব উপভোগ করেছি। মানুষ গানটি এত ভালোবেসেছে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি বিশ্বাস করি, নতুন শিল্পী ও নতুন সাউন্ড নিয়ে কাজ করার জন্য কোক স্টুডিও দারুণ একটি প্ল্যাটফর্ম।
বাংলাদেশের কোক স্টুডিওর কাজও কি অনুসরণ করেন?
অবশ্যই। এখানে খুব ভালো কাজ হচ্ছে। আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কোক স্টুডিও একসঙ্গে কোনো প্রজেক্ট করে, তাহলে সেটা সংগীতপ্রেমীদের জন্য অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা হবে।
বিশ্বের নানা দেশে গান গেয়েছেন। বাংলাদেশের দর্শকদের কোন বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে?
এখানকার মানুষ ভীষণ আবেগী। তারা শুধু গান শোনেন না, গানকে অনুভব করেন। স্টেজে যখন সবাই একসঙ্গে গাইতে শুরু করেন, তখন শিল্পী হিসেবে সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
বাংলাদেশের সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা আছে?
অবশ্যই আছে। আমি সব সময় নতুন শিল্পী ও নতুন সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশেও অনেক প্রতিভাবান শিল্পী আছেন। সুযোগ পেলে অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
বাংলা ভাষায় আরও গান গাওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
ইচ্ছা অনেক। আগে একটি বাংলা গান করেছি। তবে আমি চাই ভাষাটা আরও ভালোভাবে শিখে তারপর নিয়মিত বাংলা গান গাই। ভাষার প্রতি সম্মান রেখেই কাজ করতে চাই।
বাংলাদেশের কোন শিল্পী আপনাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেন?
রুনা লায়লা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন শিল্পী। তিনি শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো উপমহাদেশের কিংবদন্তি। তার সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল, যা আমার জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশে এলে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন?
এখানকার মানুষের আন্তরিকতা। আর খাবারের কথা তো বলতেই হবে। খিচুড়ি, বিরিয়ানি আর মালাই চা আমার খুবই পছন্দ। আমি অনেক জায়গায় বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করি। সত্যি বলতে, এখানে এলেই মনে হয় নিজের খুব কাছের মানুষের কাছে ফিরে এসেছি।