

ঢাকার চারপাশের নদী দখল ও দূষণ প্রতিরোধ, নৌপথ উন্নয়ন, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি এবং ওয়াটার বাস সার্ভিস সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা নদীবন্দর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফতুল্লা লঞ্চঘাট থেকে আশুলিয়া ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত নৌপথ পরিদর্শনকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের সময় চেয়ারম্যান পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন পানগাঁও কার্গো টার্মিনাল, শ্যামপুর কার্গো টার্মিনাল, শ্যামপুর ডকইয়ার্ড, বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা এবং তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীরে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
এ সময় শুভাঢ্যা খাল, বাদামতলী ওয়াটার বাস সার্ভিস এবং আশুলিয়া নৌপথের বিভিন্ন ঘাটে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান নদী দখল ও দূষণরোধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নদীতে বর্জ্য ফেলার উৎসগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন।
নৌযান থেকে সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে ডাস্টবিন ব্যবহারের নির্দেশনাও দেন তিনি। এ ছাড়া গাবতলী ল্যান্ডিং স্টেশনে যাওয়ার কাঁচা সড়ক দ্রুত সংস্কার করে পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
যানজট কমাতে গাবতলী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বেসরকারি উদ্যোগে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে ঢাকার চারপাশে নৌপথে বিআইডব্লিউটিসি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়েরও নির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐকান্তিক স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঢাকার চারপাশের নৌ চলাচল বৃদ্ধি তথা ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বিআইডব্লিউটিসি/ বেসরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন সার্ভিসের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা ও প্রদান করেন।
পরিদর্শনের আগে ঢাকা নদীবন্দরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন চেয়ারম্যান। সেখানে তিনি নৌযাত্রীদের সেবা আরও উন্নত করতে নতুন ও উদ্ভাবনী ধারণা এবং বাস্তবসম্মত প্রস্তাব উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
এ সময় বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) মো. সাইফুল ইসলাম, পরিচালক (নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) মো. আলমগীর কবীর, পরিচালক (নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন) ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহান, প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ কবির এবং ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মো. মোবারক হোসেন মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।