

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে রাশিয়া ও চীন। দেশ দুটির দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার এখতিয়ার এখন আর পরিষদের নেই।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রেস টিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোর অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক ডাকা হয়। তবে চীন ও রাশিয়া এর বিরোধিতা করে। পরে ভোটে ১১টি দেশ পক্ষে, দুটি দেশ বিপক্ষে এবং দুটি দেশ বিরত থাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গত বছর ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটি ছিল এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের তৃতীয় বৈঠক। এর আগে চলতি বছরের মার্চ ও জুন মাসেও একই বিষয়ে বৈঠক হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০১৫ সালে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি বা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) অনুমোদনের জন্য ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। এর মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়।
ইরান, রাশিয়া ও চীনের মতে, ওই তারিখের পর প্রস্তাবটির সব বিধান, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বেরও অবসান ঘটেছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আর কোনো এখতিয়ার নেই।
তিন দেশই বলেছে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির তথাকথিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের উদ্যোগ আইনগত ও প্রক্রিয়াগতভাবে অবৈধ। কারণ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটির কার্যকারিতা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
জাতিসংঘে রাশিয়ার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি আন্না এভস্তিগনিয়েভা বৈঠকের আগে বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবরের পর থেকে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের আর কোনো কার্যকারিতা নেই। নিরাপত্তা পরিষদেরও এ বিষয়ে আলোচনা করার ম্যান্ডেট শেষ হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন একটি বিষয় নিয়ে বারবার বৈঠক ডেকে নিয়ম ভঙ্গ করছ।
এভস্তিগনিয়েভা বলেন, ইরানকে ঘিরে অযৌক্তিকভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করার সব ধরনের প্রচেষ্টা রাশিয়া দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
জাতিসংঘে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সান লেইও একই অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক ভূমিকারও সমাপ্তি হয়েছে।
সান লেই আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টির অতিরিক্ত রাজনৈতিকীকরণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগের অভিযোগগুলো পুনরায় তুলে ধরে। তবে বৈঠক শেষে কোনো সিদ্ধান্ত, প্রস্তাব বা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
প্রস্তাবটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতিসংঘে দেওয়া এক যৌথ চিঠিতে তিন দেশ জানায়, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের সমাপ্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকারও ইতি ঘটেছে। একইসঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যবস্থাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার যে কোনো প্রচেষ্টাও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।