

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় জাগো ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে থাকা ১৫ জন শিশুকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ আর্ট ওয়ার্কশপ। শিশুদের শিল্পচর্চার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং আত্মপ্রকাশের একটি ইতিবাচক পরিসর তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকার উত্তরায় গ্যালারি কায়ার আয়োজনে এ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।
এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ ও ১২ জুলাই অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা মধুপুরে গারো সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ আর্ট সেশনের আয়োজন করবেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পচর্চার পাশাপাশি গারো জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদযাপন করা হবে। শিশুদের সৃজনশীল বিকাশ, মানসিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি এই দুটি কর্মশালার মাধ্যমে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে শিল্পচর্চার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আজকের কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ভারতের খ্যাতনামা শিল্পী চন্দ্র ভট্টাচার্য। এ সময় প্রখ্যাত শিল্পী অতীন বসাকসহ আরও কয়েকজন শিল্পী শিশুদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছবি আঁকা, শিল্পচর্চা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশ নেন। পুরো কর্মশালাজুড়ে শিশুদের শিল্পীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, বিভিন্ন শিল্পকৌশল সম্পর্কে জানার এবং নিজেদের ভাবনা ও অনুভূতি শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করার সুযোগ তৈরি হয়। প্রাণবন্ত ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশে আয়োজিত এই কর্মশালা শিশুদের জন্য ছিল শেখা, আনন্দ আর সৃজনশীলতার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের খ্যাতনামা শিল্পী চন্দ্র ভট্টাচার্যের শিল্পকর্ম নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই গ্যালারি কায়ায় এর উদ্বোধন হবে। প্রদর্শনীটি ২১ জুলাই পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্যোগটি সম্পর্কে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. এনামুল হক বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের শিক্ষা ও সার্বিক বিকাশে কাজ করে আসছি। আমরা বিশ্বাস করি, একটি শিশুর বিকাশে শুধু শিক্ষা নয়, তার সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক সুস্থতারও সমান গুরুত্ব রয়েছে। তাই শিশুদের নিজেদের ভাবনা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। গ্যালারি কায়ার সঙ্গে এই উদ্যোগের মাধ্যমে যেসব শিশু ও সম্প্রদায়ের শিল্পচর্চার সুযোগ সীমিত, তাদের কাছে শিল্পের আনন্দ ও সম্ভাবনা পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের আশা, এই কর্মশালাগুলো শিশুদের সৃজনশীলভাবে ভাবতে, আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে এবং নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পেতে উৎসাহিত করবে।’
শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও মানসিক সুস্থতার সমন্বয়ে শিশুদের সার্বিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে, প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতা অর্জনে এবং তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশে সহায়তা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিরও প্রতিফলন।