

বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ে “বাংলাদেশে এআই-সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান” শীর্ষক একটি গবেষণা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) এবং স্পৃহা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করছে। গবেষণার অর্থায়ন করছে স্পৃহা ফাউন্ডেশন।
গত বুধবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর তোপখানা রোডের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গবেষণা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিকায়নের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে, এই গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার, একাডেমিয়া ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়ে এটি একটি আদর্শ উদ্যোগ। আগামী বছর গবেষণার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বলেন, ‘এআইকে পছন্দ করুন বা না করুন, একে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়ায় এ প্রযুক্তির নেতৃত্ব ও বাস্তবায়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি জানান, আইইউবিএটির জনস্বাস্থ্য বিভাগের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা গবেষণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. এনামুল হক। তার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় সরকার, একাডেমিয়া, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। গবেষণার মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় এআই প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তির কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিচালনাগত সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।
গবেষণা প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের টিম লিডার ও আইইউবিএটির জনস্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস. কে. নাজমুল হুদা। তিনি গবেষণার লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এআই সংযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেন।
স্পৃহা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মাইকেল চালভে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা মূলত একটি মানবকেন্দ্রিক কার্যক্রম। এআই মানুষকে আরও সময়, উন্নত তথ্য, কার্যকর সম্পৃক্ততা এবং সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘সহমর্মিতা স্পৃহা ফাউন্ডেশনের অন্যতম মূল মূল্যবোধ, যা মানবকেন্দ্রিক ও ব্যাখ্যাযোগ্য এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে তাদের পথনির্দেশ করে।’
পরে স্পৃহা ফাউন্ডেশনের ড. ইশতিয়াক জাহিদ ও তাহসিন ইফনুর সাঈদ স্বাস্থ্যখাতে এআই বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি কারিগরি উপস্থাপনা দেন। উপস্থাপনার পর অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। বক্তারা এআই-সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নের সুযোগ, চ্যালেঞ্জ, নৈতিকতা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
আয়োজকদের আশা, গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ, কৌশলগত বিনিয়োগ, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীলভাবে এআই-সমর্থিত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য আরও সহজলভ্য, কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।