

বিশ্বকাপ ফুটবল বা বড় কনসার্টের মতো ‘মেগা ইভেন্টে’ দর্শকদের যাতায়াতই সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণের কারণ। তাই পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য টিকিটে ছাড় ও অন্যান্য প্রণোদনা চালু করলে এসব আয়োজনের জলবায়ুগত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮২ শতাংশ এবং ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কোল্ডপ্লের ২০২৪ সালের ইউরোপ সফরের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৯৭ শতাংশই এসেছে দর্শকদের যাতায়াত থেকে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ৪২ লাখ ৩০ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে, যা আইসল্যান্ডের এক বছরের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় সমান। এর মধ্যে শুধু দর্শকদের বিমান ভ্রমণের কারণেই প্রায় ৩০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক শন লারকম বলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনের জলবায়ু প্রভাব কমাতে শুধু স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ ব্যবহার বা পরিচালনাগত নির্গমন কমানো যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দর্শকদের যাতায়াত থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ কমানো।
গবেষণায় কোল্ডপ্লের ইউরোপ সফরের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। ব্যান্ডটি তাদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দর্শকদের কম কার্বন নিঃসরণকারী পরিবহন ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে যাতায়াতকারীদের জন্য পণ্য কেনায় ছাড় দেয়। এর ফলে দর্শকদের যাতায়াতজনিত কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৪৮ শতাংশ এবং পুরো সফরের মোট কার্বন নিঃসরণ ৪৬ শতাংশ কমে।
গবেষকরা মনে করেন, শুধু কার্বন অফসেট বা ক্ষতিপূরণমূলক প্রকল্পের ওপর নির্ভর করলে যথেষ্ট হবে না; বরং শুরু থেকেই কার্বন নিঃসরণ কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ জন্য তারা কয়েকটি সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে টিকিটে ছাড়, রেল ভ্রমণে প্রণোদনা, গণপরিবহন ও শেয়ার করা যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, এমন ভেন্যু নির্বাচন করা যেখানে দীর্ঘ দূরত্বের বিমান ভ্রমণের প্রয়োজন কম হবে এবং দর্শকদের কাছ থেকে সামান্য পরিবেশ ফি নিয়ে নির্গমন কমানোর উদ্যোগে অর্থায়ন করা।
গবেষকদের মতে, বড় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আয়োজকদের শুধু অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বই নয়, দর্শকদের যাতায়াত থেকে সৃষ্ট পরোক্ষ কার্বন নিঃসরণ কমানোর দায়িত্বও নিতে হবে।
তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ