ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

তিস্তা খননকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আনসার ক্যাম্প ভাঙচুর

ভাঙচুর করা আনসার ক্যাম্প। ছবি : কালবেলা
ভাঙচুর করা আনসার ক্যাম্প। ছবি : কালবেলা

নীলফামারীর ডিমলায় বুড়ি তিস্তা জলাধার খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড -এর বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে একটি আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে ডিমলা উপজেলার কুটিরডাঙ্গা এবং জলঢাকা উপজেলার বড়পুল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী কর্তৃপক্ষ খননকাজ শুরু করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হলেও পরে ক্ষুব্ধ জনতা আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তিন ফসলি জমিতে খননকাজ শুরু করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে তারা জানান।

স্থানীয় কৃষক রমজান আলী বলেন, আমাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি, কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে মেশিন এনে জমি খনন করা হচ্ছে। আমরা কোথায় যাব?

আনসার ক্যাম্পে কর্মরত সদস্য মো. এনামুল হক জানান, হামলাকারীরা আনসার সদস্যদের থাকার কক্ষ, অফিস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় ক্যাম্পে সংরক্ষিত রেশন সামগ্রী, আনসার সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট করা হয়। পাশাপাশি আনসার বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলিও ছিনতাই করা হয়েছে।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান কালবেলাকে বলেন, এ হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধার এবং নদী খননে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিভিএম) কালবেলাকে বলেন, আনসার সদস্যদের ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাইকৃত গুলি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, দেশে রাষ্ট্রীয় শোক চলমান থাকায় আগামী তিন দিনের জন্য খননকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন কাজ শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে : তারেক রহমান

টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক দল ঘোষণা

ক্ষমতার বাইরে থেকেও মানুষের হৃদয়ে থাকা যায়: অপূর্ব

একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকরা আজ থেকে আমানতের অর্থ ফেরত পাবেন 

নতুন বছরে ইসলামী ছাত্রনেতাদের ভাবনা-প্রত্যাশা

তারেক রহমান ও ফখরুলের ইংরেজি নববর্ষের বাণী প্রত্যাহার

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজারে বালুর ট্রাক, নিহত ৪

ভারতের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

ফের সূর্যের দেখা নেই, ব্যাহত স্বাভাবিক জনজীবন

রাজধানীর হাজারীবাগে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

১০

রাজধানীতে অটোরিকশা-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ২

১১

রবি মৌসুমে সবুজ বিপ্লবের প্রস্তুতি, লক্ষ্য ৭ হাজার হেক্টর জমি

১২

আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে জ্বালানি তেল

১৩

তিস্তা খননকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আনসার ক্যাম্প ভাঙচুর

১৪

২০২৬ সালে কোন মাসে কত দিন টানা ছুটি পাবেন চাকরিজীবীরা

১৫

বছরের শেষ দিনে জাপানে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

১৬

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা 

১৭

সাতসকালে নিয়ন্ত্রণ হারাল বালুর ট্রাক, নিহত ৪

১৮

আলজাজিরার বিশ্লেষণ / চার কারণে যুদ্ধবিরতিতে অনাগ্রহ নেতানিয়াহুর

১৯

রাতে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, চিনে ফেলায় পেট্রোল ঢেলে আগুন

২০
X