কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নবদম্পতির বাসর সাজানো হলো না, বিয়ের শাড়িই হলো কাফন

দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। ছবি : কালবেলা
দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। ছবি : কালবেলা

হাতে মেহেদির রঙ তখনও গাঢ়, নতুন জীবনের স্বপ্ন চোখে নিয়ে কনের বাড়ি থেকে বরের বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন সাব্বির ও মার্জিয়া আক্তার (মিতু)। কিন্তু সেই যাত্রা যে তাদের চিরস্থায়ী গন্তব্যে নিয়ে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি কেউ।

বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন শোকের মাতম চলছে দুই পরিবারে। বিয়ের আনন্দ উৎসব যেন মুহূর্তেই পরিণত হলো ভয়াবহ এক বিভীষিকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ। যেখানে আজ নতুন বউকে বরণ করে নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন সারি সারি লাশের মিছিল।

নিহত মার্জিয়ার মামা আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, দুপুরে কয়রা থেকে পরম আনন্দে মিতুকে শ্বশুরবাড়ি পাঠালাম। আমার বোনঝি আর নানি— সবাই তো একসঙ্গে ছিল। মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল!

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে আসা স্বজনদের কান্না যেন থামছেই না। বর সাব্বিরের পরিবারের সদস্যরাও একইভাবে শোকাচ্ছন্ন। বিয়ের কনে মার্জিয়ার সঙ্গে তার বোন লামিয়া এবং নানিও মারা গেছেন। যারা আজ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছিলেন, তাদের অনেককেই এখন নিতে হচ্ছে শেষ বিদায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাইক্রোবাসটিতে বরের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব মিলে হাসি-তামাশা করতে করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকা পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সব হাসি চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস থেকে উদ্ধারের সময় যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা, তা এখনো ভুলতে পারছেন না তারা।

এখন দুই পরিবারে চলছে শোকের ছায়া। নতুন সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল যাদের, তাদের শেষ ঠিকানা হলো গোরস্থান। বিয়ের শাড়ি আর পাঞ্জাবির ওপরই যেন পড়ে গেল নিস্তব্ধ মৃত্যুর চাদর। এই শোক কাটানোর ভাষা নেই কারো জানা।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, চারজনের মরদেহ তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, হাসপাতালে আনা ৯ জনের মরদেহ সেখানে রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ রয়েছেন। এরমধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

কালবেলা/আরএম/এমএ/এসওআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার সেই ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়’

ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে: ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা: সাভারে ৩ আসামির একদিনের রিমান্ড

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকের বিরোধের জেরে ধর্ষণ মামলা

বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ঘোষণা করল ফিফা, জায়গা পেলেন যারা

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতির বোনের বাসায় চুরি, শ্রমিকদল নেতা গ্রেপ্তার

৪৯তম বিশেষ বিসিএস: দুই প্রার্থীর ফল ও সাময়িক নিয়োগ বাতিল

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল অটোরিকশার ২ যাত্রীর

১০

টানা বৃষ্টিতে মরিচের বাজারে আগুন

১১

লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে রেডিওতে সতর্কবার্তা দিচ্ছে হুতিরা

১২

আধুনিক মেশিনে বদলে যাচ্ছে রামেক হাসপাতালের ল্যাব সেবা

১৩

হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১৪

ফেনীতে আ.লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

১৫

মেসিদের নিয়ে অপপ্রচার, কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা

১৬

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই: পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি

১৭

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে ইরান

১৮

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় কারাগারে স্ত্রী

১৯

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / কমলগঞ্জে সেই ১২০০ কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন

২০
X