সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জমিদার বাড়ির ‘বউঘাট’ খুঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে গুপ্তধন!

জমিদার বাড়ির বউঘাট, ইনসেটে পাথরের মূর্তির ভাঙা অংশ। ছবি : কালবেলা
জমিদার বাড়ির বউঘাট, ইনসেটে পাথরের মূর্তির ভাঙা অংশ। ছবি : কালবেলা

ফরিদপুরের সদরপুরে গুপ্তধনের আশায় খুঁড়ে তছনছ করা হচ্ছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো বাইশরশি জমিদার বাড়ির ‘বউঘাট’ (নারীদের গোসলের ঘাট)। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র প্রকাশ্যেই সেখানে খনন চালিয়ে মূল্যবান প্রত্নসম্পদ তুলে নিচ্ছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বউ ঘাটের নিচের অংশে খনন করে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। খননের স্থানে পাথরের মূর্তির ভাঙা অংশ পড়ে আছে। এছাড়া জমিদারদের ব্যবহৃত পাথরের থালা, পূজার ঘটিসহ বিভিন্ন তৈজসপত্রের ভাঙা অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সম্প্রতি জমিদার বাড়ির পুকুরের ওই বউঘাটের পানি শুকিয়ে গেলে সুযোগ নেয় চক্রটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের বেলাতেই কয়েক ব্যক্তি মাটি তুলে পাশের পুকুরে নিয়ে ধুয়ে সেখান থেকে মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করছে। তাদের হাতে স্বর্ণালংকার, পাথরের দাবার গুটি, বল, তামা ও রুপার মুদ্রাসহ বিভিন্ন পুরোনো জিনিসপত্র উদ্ধার হতে দেখা গেছে। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা থেকে আসা বলে দাবি করেন।

স্থানীয়রা জানান, একসময় এই জমিদার পরিবার ফরিদপুর, বরিশালসহ ২২টি পরগনার অধিপতি ছিল। যে স্থানে খনন করা হচ্ছে, সেখানে জমিদার বাড়ির নারীরা স্নান করতেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হতো। ধারণা করা হয়, স্নানের সময় হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান রত্নের আশায়ই চক্রটি সেখানে খনন করছে।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৭শ শতকের গোড়ার দিকে লবণ ব্যবসার মাধ্যমে সাহা পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়। পরবর্তীতে তারা একে একে ২২টি পরগনা ক্রয় করে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করে। ১৮শ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পর্যন্ত ভারতবর্ষজুড়ে এই পরিবারের খ্যাতি ও প্রতিপত্তি ছিল সুপরিচিত।

একসময় প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই জমিদার বাড়িতে ছিল বাগানবাড়ি, শানবাঁধানো পুকুর, পূজামণ্ডপ এবং দ্বিতলবিশিষ্ট ছোট-বড় ১৪টি দালানকোঠা। বর্তমানে প্রায় ৩০ একর জমি টিকে থাকলেও বাকি অংশ দখল হয়ে গেছে। এখনো কারুকার্যখচিত দরজা-জানালা ও লোহার অলংকরণে অতীতের আভিজাত্যের ছাপ মিললেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। মূল্যবান কাঠের দরজা, লোহার কারুকাজ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন একের পর এক লুট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলায় জায়গাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়, এমনকি দিনের বেলাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, খননের বিষয়টি আমি সদ্য অবগত হয়েছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, জমিদার বাড়ির ভেতরে উপজেলা ভূমি অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও স্থাপনাটির নিরাপত্তা ও সংরক্ষণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঐতিহাসিক এই নিদর্শন রক্ষা করা হোক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বিএনপি নেতার মোটরসাইকেল চুরি করলেন আ.লীগ নেতা 

এক বছরের মধ্যে বাড়ি করতে পারবেন ঝিলমিল প্রকল্পের গ্রাহকরা: গণপূর্তমন্ত্রী

চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফের সঙ্গে বিএনপি নেতা হুদার বৈঠক

এমন প্রশ্ন করবেন না, বিদ্যুৎমন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করেননি : স্পিকার

বিবিসির বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে যারা

বিশ্বকাপ জার্সিতে আরেক দেশের পতাকা, নেপথ্যে যে কারণ

মেক্সিকো / বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

ফাঁস হয়ে গেছে মেসিদের পাসপোর্ট

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত

১০

আমের হাটে ‘ঢলন’ সিন্ডিকেটে জিম্মি চাষি-ব্যবসায়ীরা

১১

হেল্পলাইন ১০৯-এ কর্মরতরা ৩ বছর বেতন পান না : ডা. জাহিদ

১২

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের সাক্ষাৎ / বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজমন্ত্রী

১৩

রাজনৈতিক নেতার পাশবিকতার শিকার কিশোরী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা!

১৪

চায়না মিডিয়া গ্রুপের ৫ম সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী

১৫

ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সীমানা চিহ্নিত করতে ২ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

১৬

১৭ বছর আগে যার সঙ্গে খেলতেন, মেসি আজ খেললেন তার ছেলের বিপক্ষে

১৭

ইসরায়েলের হামলা এখন তুরস্কের জন্যও হুমকি : এরদোয়ান

১৮

ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে : আইনমন্ত্রী

১৯

আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান : শাবিপ্রবি উপাচার্য 

২০
X