কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আদালতে জবানবন্দি দিল নির্মম নির্যাতনের শিকার সেই গৃহকর্মী শিশু

আদালত প্রাঙ্গণে গৃহকর্মী মোহনা। ছবি : কালবেলা
আদালত প্রাঙ্গণে গৃহকর্মী মোহনা। ছবি : কালবেলা

নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসার সেই গৃহকর্মী মোহনা।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া তাকে আদালতে হাজির করে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এরপর মোহনাকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে বাবার জিম্মায় নেওয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মোহনার পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ফাহমিদা আক্তার রিংকি বলেন, মোহনা অসুস্থ থাকায় তাকে আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুস্থতা সাপেক্ষে জিম্মার বিষয়ে শুনানি হবে।

শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা রোববার সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথী, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগমের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

মামলায় বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান।

সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি। এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।

মোস্তফা মামলায় বলেছে, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর ‘সদুত্তর দিতে পারেনি’।

পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হত। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হতো।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাজায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫

সরকারি দলের বৈঠক / এমপি-মন্ত্রীদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল: কেমন হতে পারে ব্রাজিলের সম্ভাব্য যাত্রা

গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল: কেমন হতে পারে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য যাত্রা

বুবলীর মা হওয়ার খবরে স্মিতার কড়া সমালোচনা

বাংলাদেশের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল ভারত

যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে যাত্রীবোঝাই বাস

বারে ৩ বার বল লাগলে গোল, চোটের ভান করলেই শাস্তি?

‘এনসিপিকে জামায়াতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে’

১০

ঐতি‌হ্যে সমৃদ্ধ দামুড়হুদার প্রাণ‌কে‌ন্দ্র, তবুও উন্নীত হয়‌নি পৌরসভায় 

১১

শরীয়তপুরে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রায় দুর্ঘটনা, আহত ৪

১২

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনায় যোগ দিলেন ব্রাজিল সমর্থক

১৩

দালালকে ধরে হাসপাতালের ড্রেন পরিষ্কার করাল ছাত্রদল

১৪

ইরানের হাতে এখনও ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে : ট্রাম্প

১৫

হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম কমলো বিশ্ববাজারে 

১৬

দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বড় সুখবর

১৭

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের চালকসহ গ্রেপ্তার ৩

১৮

ঢাবি ট্রেজারারকে ‘পাড়ার গুন্ডা-মাস্তানের’ মতো কথা না বলার অনুরোধ সর্ব মিত্র চাকমার

১৯

তিন সপ্তাহ যেতেই নতুন উপাচার্য পেল জাবিপ্রবি

২০
X