কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল

রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি : সংগৃহীত
রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি : সংগৃহীত

দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ওই সময় থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি শূন্য রয়েছে।

ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট, যা আইন পেশার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।

তিনি আইনজীবীদের মধ্যে একজন জনপ্রিয় নেতা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ভোটে পরপর তিনবার (২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিই এই সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত সম্পাদক।

এ ছাড়া সারা দেশের আইনজীবীদের ভোটে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিসের অনুমতি লাভ করেন। ২০০৮ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

সাংবিধানিক আইনের বিভিন্ন জটিল ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে সর্বোচ্চ আদালতে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেছেন। আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সংক্রান্ত তার মতামত বাংলাদেশের জাতীয় গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ মতামত হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে বেশ কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী রিভিউ মামলা, পঞ্চদশ সংশোধনী মামলা, ডক্টর ইউনুস সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের বিপক্ষে শুনানিতে তার সাবমিশন আইনজীবী মহলে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছে। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী রিভিউ মামলায় তিনি বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের আইনগত ত্রুটিগুলো সূক্ষ্ম পর্যালোচনা আদালতে উপস্থাপন করেন, রিভিউয়ের স্কোপ এবং জাজমেন্টের সংজ্ঞা বিষয়ে তার সাবমিশন বিচারকগণ অতি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। উক্ত মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডক্টর সৈয়দ রেফাত আহমেদের অনুরোধে তিনি সফররত নেপালের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে যুক্তিততর্ক উপস্থাপন করেন, যা আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ বিভিন্ন মামলার শুনানিতে তার দক্ষতা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন, যুক্তরাজ্য-এ ২০০৩-২০০৬ মেয়াদে কর্মরত ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পেশাগত জীবনের মতো শিক্ষাজীবনেও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিটি ধাপে মেধার স্বাক্ষর রেখে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তিনি ১৯৮৬ সালে যশোর বোর্ড থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৮৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯৪ সালে এলএলএম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

পুনরায় ২০০৫ সনে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল' সনদ অর্জন করেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ ল অ্যাসোসিয়েশন এবং ল এশিয়ার সদস্য।

একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কর্তৃক গঠিত আইন সহায়তা সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত নির্বাচনে বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশনে এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।

জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তিনি বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং সংবিধান ও বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত সংস্কার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।

সাংবিধানিক ও ফৌজদারি আইনে বিশেষ দক্ষতার পাশাপাশি, পেশাজীবীদের নেতা হিসেবে ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কারণে একজন যোগ্য নেতা ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি সুপরিচিত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।

কালবেলা/নূর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর

বেনাপোলে অবৈধ ইলিশের চালান আটক

সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ঠেকাল বিজিবি

পাহাড়ি ঢল ও স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনায় বেহাল চকরিয়ার সড়ক

আবারও হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল? পিটিশনের সবশেষ অবস্থা

তেল সংকটের গুজব, ফিলিং স্টেশনে উপচেপড়া ভিড়

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে বাংলাদেশ-ইইউ আলোচনা

কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়ল ‘সোলজারফিশ’

বর্ষায় বাড়ছে সাপের উপদ্রব, ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ার হাসপাতালে ১৩ রোগী

ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ / শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

১০

ছুটির দিনে দীর্ঘ সময় যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ

১১

মধ্যরাতে রাস্তায় পুলিশ দম্পতির মারামারি

১২

শুক্রবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৩

২৪ জুলাই  / ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

১৪

৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার যুবক

১৫

আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার

১৬

সকালের মধ্যে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

১৭

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৮

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে এরপর কী? জেনে নিন সংবিধানের বিধান

১৯

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা, সফর সংক্ষিপ্ত করে আজই দেশে ফিরছেন স্পিকার

২০
X