

সাপের নাম শুনলেই অধিকাংশ মানুষের মনে এক অজানা আতঙ্ক দানা বাঁধে। কিন্তু যদি শোনেন যে, একটি সাপ মারা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও কাউকে কামড়ে দিয়েছে, তবে তা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমনই কিছু বিস্ময়কর ও হাড় হিম করা ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা আমাদের প্রথাগত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়।
ভারতের আসামে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত সাপ কেবল কামড়াতেই নয়; বরং প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগ করতেও সক্ষম।
ভারতের আসামে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত সাপও কামড়াতে এবং বিষ প্রয়োগ করতে সক্ষম।
আসামের সেই হাড় হিম করা ঘটনাগুলো
২০২২ ও ২০২৩ সালে ভারতের আসাম রাজ্যে তিনটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, যেখানে মৃত সাপ কয়েক ঘণ্টা পর মানুষকে কামড় দেয়। এই তালিকায় ছিল মোনোকোল্ড কোবরা (খইয়া গোখরা) এবং ব্ল্যাক ক্রেট (কালাচ)-এর মতো মারাত্মক বিষধর সাপ।
মরার পরও কেন কামড়ায়?
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা গবেষণা জার্নাল ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন ট্রপিকাল ডিজিসেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাপের কামড় দেওয়ার ক্ষমতা মারা যাওয়ার তিন ঘণ্টা পরও বজায় থাকতে পারে। এর মূল কারণ হলো সাপের স্নায়ুতন্ত্র বা রিফ্লেক্স অ্যাকশন।
ইউনিভার্সাল স্নেকবাইট এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক ডা. এনএস মনোজ ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষের যেমন ঘুমের মধ্যে মশা কামড়ালে হাত নিজে থেকেই নড়ে ওঠে, সাপের ক্ষেত্রেও এই ‘রিফ্লেক্স’ কাজ করে। এ প্রক্রিয়াটি সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে নয়, বরং মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। সাপ মারা গেলেও তার শরীরের একেকটি অংশ ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করে, ফলে স্নায়ুতন্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি স্তব্ধ হয় না।
এ ছাড়া, সাপের বিষদাঁত ও বিষ-গ্রন্থি একটি সিরিঞ্জের মতো কাজ করে। মৃত সাপের বিষ-গ্রন্থিতে যদি কোনোভাবে চাপ লাগে, তবে তার বিষদাঁতের মাধ্যমে সেই বিষ বের হয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এই বিষ প্রয়োগের ওপর মৃত সাপের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
সাবধানতা যেখানে জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের বিষধর সাপই মরার পরে বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে রাসেল ভাইপার, শ স্কেল্ড ভাইপার, বিভিন্ন প্রজাতির পিট ভাইপার, কোবরা এবং ক্রেট সাপের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এমনকি কিছু জলজ সাপের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটা সম্ভব।
ডা. মনোজের মতে, সরীসৃপ প্রাণীর মৃত্যুর সংজ্ঞা চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানুষের মতো এত নির্দিষ্ট নয়। তাই কোনো সাপকে নড়াচড়া করতে না দেখে বা মাথা কেটে ফেলে সেটিকে ‘মৃত’ ভেবে ছুঁতে যাওয়া চরম বোকামি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি