

দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে অনলাইন পাঠদান চালুর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রিটকারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও দেবাশীস রায়ের বেঞ্চে রোববার (১৯ এপ্রিল) শুনানির জন্য জমা দেওয়া হলে এ দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
এর আগে দেশে হামে ৪৭ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সেই সঙ্গে হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত ২ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করা হয়। তবে অবকাশকালীন সময়ে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ রিটটি শুনতে চাননি।
রিটে আরও বলা হয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার প্রাপ্যতা বজায় রাখতে না পারা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও জরুরি সাড়া প্রদানে ঘাটতি— এসবই সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে হামের টিকা না কেনার ঘটনায় দুদকে একটি তদন্ত চেয়ে আবেদন করা আছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্থগিত রাখা প্রয়োজন। এর বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে।
এর আগে গতকাল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের শিশুদের হামের টিকার ব্যবস্থা করতে সরকারকে আইনী নোটিশ পাঠানো হয়।
মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এ নোটিশ পাঠান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন কিছুদিন যাবত হামের টিকার অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুবরণ সহ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। অথচ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করছে না।
নোটিশে পত্রিকায় প্রকাশিত হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, উপসর্গ নিয়ে ক্ষতি শতাধিক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি নোটিশে আরও উল্লেখ করেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে।