

রাজধানীর কাফরুল থানাধীন এলাকায় ১৮ বছর আগে শফিকুল ইসলাম মিলন (১১) নামে এক শিশুকে মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামি আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমানের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এছাড়াও এই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. আব্দুল মোতালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে বেকসুর খালাসের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একই অভিযোগে সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুল নামে আরেক আসামিকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের কারাগার পাঠানো হয়। অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এছাড়াও এই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. আব্দুল মোতালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে বেকসুর খালাসের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় পূর্বক অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ বিকেলে কাফরুলের উত্তর সেনপাড়া এলাকা থেকে শিশু শফিকুল ইসলাম মিলন নিখোঁজ হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ৮ মার্চ সাভারের রামচন্দ্রপুর এলাকায় লাশ ফেলে দেয়। এই ঘটনায় মিলনের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কাফরুল থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৩ মে কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক মীর আবুল কালাম আজাদ মোট ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— আল আমিন ধরামি, মাসুদ রানা, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল মোতালেব এবং আমিরুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় দিলেন।