

চার দশকেরও বেশি সময় পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় সুপারহিরো চরিত্র 'সুপারগার্ল'। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘সুপারগার্ল’ সিনেমার ৪২ বছর পর নতুন রূপে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে ডিসি ইউনিভার্সের এই শক্তিশালী নারী নায়ক। আন্তর্জাতিকভাবে সিনেমাটি মুক্তি পাবে ২৬ জুন। নতুন ‘সুপারগার্ল’ পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ গিলেস্পি। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্র কারা জোর-এল বা সুপারগার্লের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিলি অ্যালকক। এছাড়া রয়েছেন ম্যাথিয়াস শোনার্টস, ইভ রিডলি, ডেভিড ক্রামহোল্টজ, এমিলি বিচাম, ডেভিড কোরেনসওয়েট এবং জেসন মোমোয়া।
১৯৮৪ সালের প্রথম ‘সুপারগার্ল’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছিল সুপারম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির স্পিন-অফ হিসেবে। তবে বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সিনেমাটি। সমালোচকদের কাছ থেকেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়, যার প্রভাব দীর্ঘদিন নারী সুপারহিরো-কেন্দ্রিক চলচ্চিত্র নির্মাণে দেখা গিয়েছিল।
নতুন সংস্করণের প্রতি দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ মিলি অ্যালককের উপস্থিতি। এর আগে জনপ্রিয় সিরিজ 'হাউস অফ দ্য ড্রাগন' -এ তরুণ টারগারিয়েন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারম্যান সিনেমায় অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই তিনি দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এবারের গল্পে সুপারগার্লকে দেখা যাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও বাস্তববাদী এক চরিত্র হিসেবে। পৃথিবীতে বড় হওয়া সুপারম্যানের মতো সুখী শৈশব তার ছিল না। ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্রিপ্টনের একটি অংশে বেড়ে ওঠা কারা জোর-এল ছোটবেলা থেকেই মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে গড়ে তুলেছে ভিন্ন মানসিকতার নায়ক হিসেবে।
গল্পে নিজের বিশ্বস্ত সঙ্গী কুকুর ক্রিপ্টোকে নিয়ে মহাকাশ ভ্রমণে বের হন সুপারগার্ল। এ সময় তার পরিচয় হয় রুথি নামের এক কিশোরীর সঙ্গে, যার পরিবারকে হত্যা করেছে এক নির্মম দস্যু নেতা। এরপর প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের খোঁজে দুজন এক বিপজ্জনক আন্তঃগ্যালাক্টিক অভিযানে পা বাড়ায়।
সিনেমাটির আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো জনপ্রিয় কমিকস চরিত্র লোবোর লাইভ-অ্যাকশন অভিষেক। ভয়ংকর এই মহাকাশ-ভাড়াটে শিকারির চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসন মোমোয়া। কমিকসপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে বিশেষ চমক।
পরিচালক ক্রেইগ গিলেস্পি জানিয়েছেন, চরিত্র ও গল্প নির্মাণে কমিকসের মূল ভাবনার প্রতি যতটা সম্ভব বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু একটি একক সুপারহিরো গল্প হিসেবেই নয়, নতুন ডিসি সিনেমাটিক ইউনিভার্স গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে ‘সুপারগার্ল’কে। ডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় জেমস গান সুপারম্যানের পাশাপাশি সুপারগার্লকেও অন্যতম কেন্দ্রীয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।