

ইলিয়াস জাভেদ, অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক। অভিনয়-নৃত্যের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রকে উপহার দিয়েছেন অনন্য এক সময়। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (২১ জানুয়ারি) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে, স্বামী জাভেদের মৃত্যুর পর শোকাহত ডলি চৌধুরী একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে ইলিয়াস জাভেদের জীবদ্দশায় স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
ডলি চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘জীবিত অবস্থায় যদি তার (ইলিয়াস জাভেদ) মূল্যায়ন না করা হয়, যদি তার কর্মস্থল থেকেই তাকে সম্মান না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি চলে যাওয়ার পর এসব সম্মাননা দিয়ে কী হবে? জাভেদ যা করেছে, তার বিনিময়ে আমি আর কোনো স্বীকৃতি চাই না। আমি এসব প্রত্যাখ্যান করছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় ৫৫ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনি খেয়ে না খেয়ে পরিশ্রম করেছেন। তার যা ছিল, সবই দিয়ে গেছেন। এখন তিনি নেই। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো পুরস্কার, কোনো সম্মাননা আমি গ্রহণ করব না। জীবিত অবস্থায় যেহেতু তিনি পাননি, মৃত্যুর পর এসব দিয়ে তার কী হবে?’
পারিবারিক তথ্যে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদের আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। চলচ্চিত্রজগতে তার পথচলা শুরু নৃত্য পরিচালক হিসেবে। পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং একসময় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন শক্তিশালী চরিত্রাভিনেতা হিসেবে।
জন্মসূত্রে পাকিস্তানি হলেও অভিনয়ের টানে ষাটের দশকে বাংলাদেশে পাড়ি জমান ইলিয়াস জাভেদ। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জাভেদ। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার পর দর্শকপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এই নায়কের। এই সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন শাবানা।
জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে, ‘মালকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’, ‘আবদুল্লাহ’ প্রভৃতি।
মন্তব্য করুন