

দর্শকপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নদীঘেরা উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুর জেলাকে। এ জেলার ইতিহাস ও সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে এবার নান্দনিক মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল লক্ষ্মীপুর জেলা সদরে অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন দালাল বাজার জমিদারের স্মৃতিবহনকারী নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।
এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে দুটি বিশেষ গান। যার একটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন লক্ষ্মীপুরেরই কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমা এবং ফেনীর কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গীতিকার কবির বকুলের কথায় দরদী সুরে গানটি সৃষ্টি করেছেন আকাশ মাহমুদ।
অন্যদিকে, প্রতিবারের মত এবারও থাকছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে গীত এই সুরের মূর্ছনায়, এস কে জাহিদের মনোমুগ্ধকর কোরিওগ্রাফিতে মঞ্চ মাতিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা। দর্শকপর্বেও নির্বাচিত চারজন এই পর্বের অতিথি লক্ষ্মীপুর জেলারই সন্তান জনপ্রিয় নাট্যব্যক্তিত্ব শ্রদ্ধেয় দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয় করেন।
এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী-লক্ষ্মীপুরের গর্ব নিশাত মজুমদারের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। প্রতিবারের মত এবারের পর্বেও রয়েছে কয়েকটি অনবদ্য প্রতিবেদন। রয়েছে নদী আর ভাগ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করা লক্ষ্মীপুরের এক নিঃস্ব মাঝিকে নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন।
এবারের বিদেশি পর্বে রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ফেরত সৈনিকদের তৈরি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও চোখধাঁধানো উপকূলীয় পথ বিশ্বের দীর্ঘতম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ‘গ্রেট ওশান রোড’। থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার এবং নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। এছাড়াও ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর তীক্ষ্ণ ও তীর্যক নাট্যাংশ।
এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন, সোলায়মান খোকা, আজম খান, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, জিল্লুর রহমান, আব্দুল আজিজ, বড়দা মিঠু, শরাফ আহমেদ জীবন, হারুন রশিদ বান্টি, আশরাফুল আলম সোহাগ, সুমন পাটোয়ারী, আমিন আজাদ, মুকিত জাকারিয়া, আনন্দ খালেদ, সাইদুর রহমান পাভেল, এমএনইউ রাজু, আনোয়ারুল আলম সজল, আনোয়ার শাহী, জামিল হোসেন, সাবরিনা নিসা, জাহিদ শিকদার, কামাল বায়েজিদ, সাজ্জাদ সাজু, নূরে আলম নয়ন, সুজাত শিমুল, সুর্বনা মজুমদার, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, সূচনা শিকদার, নিপু, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরো অনেকে।
বরাবরের মত এবারও ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ইত্যাদির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন। ইত্যাদির এই পর্বটি আগামী ৩১ জুলাই, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের সৌজন্যে অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।