

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর শুধু গানেই নয়, সমসাময়িক নানা ইস্যুতে নিজের স্পষ্ট মতামতের জন্যও পরিচিত। এবার দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি চর্চার বর্তমান অবস্থা, সংগীতের বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নানা বাস্তবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেই স্ট্যাটাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশে তাঁর অবদানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন এই শিল্পী।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে আসিফ লেখেন, ‘জনবহুল বাংলাদেশে ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসেবে বিনোদনকে স্বীকৃতি দেওয়াটা জরুরি মনে করি। দেশে মানুষের বিনোদনের খুবই সঙ্কট। বিশেষ করে শিশুর মানসিক বিকাশে বিনোদনের বিকল্প নেই। মানুষের মধ্যে হিংস্রতা, জিঘাংসা এবং হতাশার জন্ম দেয় বিনোদনের অভাব। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মননশীলতার বিকাশ ঘটানো সারা বিশ্বে সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা।’
এরপর লেখেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৭৯/৮০ সালে চট্টগ্রামের মিউজিশিয়ানদের সাথে মিটিং করেন। সেখানে উপস্থিত অনেকেই পরবর্তীতে দেশবরেণ্য তারকা হয়েছেন। শহীদ জিয়া দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন ইন্সট্রুমেন্টসের চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন এবং আমদানী কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেন। যে কারণে ৯০ দশকে ব্যান্ড সঙ্গীতে বিপ্লব ঘটে যায়। ২০২৬/২৭ অর্থবছরের বাজেটে পূর্ব আরোপিত ৫% শূল্ক সম্পূর্ন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এইআই মিউজিকের নামে ভৌতিক অবস্থা থেকে বাঁচতে ওয়েস্টার্ন যন্ত্রপাতির চর্চাও আবশ্যক, যা আমাদের সঙ্গীতের ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করবে। এজন্য বর্তমান সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
আসিফের কথায়, ‘চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ টি দেশের মধ্যে ১৩টি দেশই মুসলিম। বিশ্বের সব মুসলিম দেশেই সংগীতসহ সব ধরণের খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চা চলে। সুতরাং পশ্চাৎপদতার দিকে ধাবিত না হয়ে বিশ্বের সাথে সমানতালে প্রতিযোগিতা করেই দেশকে সমৃদ্ধ করতে হবে। আমাদের শিশুদের মৌলিক অধিকার বিনোদন, সুস্থ্য সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বিনোদনের বিকল্প নেই। আশা করি বর্তমান সরকার মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে সারা দেশে মজবুত এবং টেকসই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করবেন।’
গায়কের সঙ্গে নেটিজেনদের অনেকেই সহমত পোষণ করেছেন। সুস্থ ধারার বিনোদন চর্চা জরুরি মত প্রকাশ করেছেন কেউ। কেউ কেউ আবার এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় এ কণ্ঠশিল্পীকে।