কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণভোট বাতিলের সুযোগ নেই : শিশির মনির

হাইকোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মপরিষদের সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির। ছবি : কালবেলা
হাইকোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মপরিষদের সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির। ছবি : কালবেলা

স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণভোট বাতিলের কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির। গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

সোমবার (৩০ মার্চ) হাইকোর্টে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মপরিষদের সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২টিকে ল্যাপস, ৩টিকে বাতিল এবং ৩১টিকে সংশোধন সাপেক্ষে সংসদে তোলার যে প্রস্তাব বিশেষ কমিটি দিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অধ্যাদেশগুলোর অধীনে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কাজগুলোকে সরকার ‘হেফাজত’ বা সংরক্ষণ করতে চাইলেও আইনগুলোকে বাতিল করার উদ্যোগ নিয়ে শিশির মনির সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘ওনারা বলেছেন এগুলোকে সেভ করা হবে, হেফাজত করা হবে। আপনি যদি আইনটাকে হেফাজত না করেন, শুধু কাজটাকে হেফাজত করেন, এর অর্থ কী? আপনি কাজটাকে ভালো মনে করে হেফাজত করছেন, তাহলে আইনটাকে ভালো মনে করছেন না কেন?’

হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী হাইকোর্ট ডিভিশনে বিচারক নিয়োগ হয়েছে। এই অধ্যাদেশটা যদি বাদ করে দেন, তাহলে এই বিচারকদের কী হবে? তখন তারা (সরকার) বলছেন এই বিচারকদেরকে আমরা এখানে হেফাজত করব। আর বাকি পরবর্তীতে যারা আসবে, তাদেরকে আর হেফাজত করতে হবে না? তারা হেফাজতের বাইরে চলে যাবে?’

অধ্যাদেশ বাতিলের পরিণতি সম্পর্কে তিনি দিয়ে বলেন, ‘আগেরটা ভালো মনে করে সেভ করছেন, পরেরটা কী করবেন? আগের মতোই করবেন গোপনে গোপনে? টেবিলের নিচ দিয়া? অমুকরে পছন্দ, তমুকরে অপছন্দ, অমুক আমার দলের লোক, তমুক আমার দলের লোক, এইভাবে বিচারক নিয়োগ করার জন্য আবার সেই রাস্তা ওপেন করছেন? দিস ইজ এ ব্যাড ইনটেনশন। নোবডি শুড ডু দিস।’

গণভোট অধ্যাদেশকে ‘ইনফ্রাকচুয়াস’ (অকার্যকর) হিসেবে ল্যাপস করার প্রস্তাবকে সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৬ ধারা, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল এবং হাইকোর্টে বিচারাধীন রিটের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এগুলোকে তিনি ‘ইনসেপারেবল টুইনস’ (অবিভাজ্য যমজ) হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

১৯৯১ সালের গণভোট আইনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোট বিলুপ্ত হওয়ার পরও ওই আইনটি কার্যকর ছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের মতামতকে (গণভোটের রায়) ফ্রাস্টেট করে কোনো উদ্যোগ নেওয়া উচিত হবে না। অন্যথায় আইনি বিশৃঙ্খলা (লিগ্যাল কেওস) তৈরি হবে।

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেন এই আইনজীবী জানান, সরকার যুক্তি দিচ্ছে যে গুমের সঙ্গে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত, তাই আইনটি পাসের দরকার নেই।

এর জবাবে শিশির মনির প্রশ্ন রাখেন, ‘তাহলে গুমের তদন্ত করার যে এজেন্সি আছে, যারা ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি, ডিজিএফআই থেকে শুরু করে পুলিশ পর্যন্ত তারা আসামি হয়, এই তদন্ত করবে কে?’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক ও পরিচালক নিয়োগে সার্চ কমিটির বিধান বাতিলের উদ্যোগ নিয়েও তিনি কথা বলেন। শিশির মনির বলেন, ‘সরকার চাইলেই হায়ার এবং ফায়ার করতে পারবেন না। তারা বলছেন এই সার্চ কমিটির বিধানটাকে তারা বাতিল চান। তাহলে দুদকের মহাপরিচালক কিভাবে অ্যাপয়েন্টেড হবেন? সরকার যারে চাইবেন তাকেই বসাবেন, যাকে বাদ দিতে চাইবেন তাকেই বাদ দেওয়াবেন।’

পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় অধ্যাদেশে ‘সরকার উপযুক্ত মনে করিলে’ শব্দগুচ্ছ যুক্ত করার প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার উপযুক্ত মনে করলে যদি এটা ফাংশন করতে পারে, তাহলে আর এই আইনের দরকার কি? সরকার উপযুক্ত মনে করলে বদলি হবে, ছুটি হবে, শৃঙ্খলা হবে—তাহলে অধস্তন বিচারকদের স্বাধীনতা কোথায় থাকবে? এখন এসে যে লাউ সেই কদুতে আবার ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছেন।’

ব্যাংক রেগুলেশন অধ্যাদেশ ল্যাপস করার প্রস্তাবের পেছনে মানি লন্ডারারদের বাঁচানোর উদ্দেশ্য দেখছেন শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘তাহলে ওই মানি লন্ডারিংয়ের চাপে পড়েছেন নাকি? যারা মানিটা লন্ডার করল, ব্যাংককে খালি করলো তাদেরকে তো সেভ করে দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেজরিটি যদি কারও থাকে, তারা যদি যুক্তির চাইতে অহংকার আর শক্তি প্রদর্শন করেন, এটা শেষ পর্যন্ত জাতিগতভাবে ভালো কোনো রেজাল্ট দেয় না।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শত্রুরা ইরানের জনগণের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে : মোজতবা খামেনির

মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : চেয়ারম্যান

‘জামায়াত নেতার বেদে মেয়েদের চুল কেটে দেওয়ার’ দাবিটি ভুয়া

কক্সবাজারে মাটিচাপায় দুই শ্রমিক নিহত

উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় অস্তিত্বহীন মসজিদ, বিএনপি নেতাকে শোকজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে : স্টেফান লিলার

ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ডিএসসিসির ৬৩ ওয়ার্ড, ২৭টি চরম ঝুঁকিপূর্ণ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা

থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানো সেই ওসি প্রত্যাহার, মামলার প্রস্তুতি

১০

এনসিপির এক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

১১

নির্বাচনের আগেই তারা আমাকে হারিয়ে দিয়েছিল : মির্জা ফখরুল

১২

বিশ্বকাপের ভেন্যুতে নিষিদ্ধ হলো পানির বোতল

১৩

নতুন চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার পেল বিএসইসি

১৪

একাকী অনুশীলন করছেন মেসি

১৫

বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মাসুদ খান

১৬

নেইমার নাকি ভিনি, ১০ নম্বর জার্সি কার

১৭

মার্কিন নাগরিককে ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী

১৮

বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করল অপ্টা

১৯

জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার / রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা ও নিজের পালিয়ে যাওয়ার বর্ণনায় যা জানালেন সোহেল

২০
X