কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রায়ে ‘অসন্তুষ্ট’ শহীদ আবু সাঈদের পরিবার

শহীদ আবু সাঈদের বাবা-মা। ছবি : সংগৃহীত
শহীদ আবু সাঈদের বাবা-মা। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি তার বাবা-মা ও দুই ভাই আবু হোসেন ও রমজান আলী। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম বলেছেন, রায়ে আরও অনেকের ফাঁসি হওয়া উচিৎ ছিল। অনেক অপরাধীর সামান্য শাস্তি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে মাত্র দুজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আমার ছেলেকে গলা টিপে ধরেছিল, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো না। আরও কঠোর সাজা দেয়া দরকার ছিল।’

মকবুল হোসেন দাবি করেন, অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে। বড় অপরাধীদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিয়ে ছোটদের সাজা দেয়া হয়েছে।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই রায়ে আমরা খুশি নই। আমার ছেলে অনেক অত্যাচারের শিকার হয়েছিল।’ বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সরকারের কাছে মামলাটি পুনরায় আপিলের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

শহীদ আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন বলেন, আমার ভাইকে যে দুই পুলিশ সদস্য গুলি করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। কিন্তু বাকি আসামিদের সাজা অনেক কম হয়েছে। যারা সরাসরি গুলি চালিয়েছে তাদের ফাঁসি হলেও, যারা সেই গুলির নির্দেশ দিয়েছেন তাদের কারও ফাঁসি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও পুরো রায় পর্যালোচনা করতে পারিনি। প্রসিকিউটরদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব।’

বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আশা করেছিলাম এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পাব। বাংলার মাটিতে আবু সাঈদ হত্যার সঠিক বিচার হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতো। কিন্তু আজকের রায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় আমরা ব্যথিত। আমরা পোমেল বড়ুয়ার ফাঁসি চাই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোষিত এই রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে ১০ বছর, আটজনকে পাঁচ বছর এবং ১১ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, একজনের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশুলিয়ায় ডিবির বিশেষ অভিযান / হাজার লিটার চোলাইমদ ও ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন লামিন ইয়ামাল

একটানা বসে কাজ করার অভ্যাস কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়?

‘যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি লঙ্ঘন করায় তা আর বাস্তবায়ন করবে না ইরান’

স্পেনই জয়ের যোগ্য, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি: স্কালোনি

হারের পর মেসির ‘মলিন’ ছবি দিয়ে রোকোজ্জুর স্ট্যাটাস

মাংসের দাম নিয়ে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতা বহিষ্কার

সিলেটে ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি, আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা

যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো স্থল অভিযান প্রতিহত করা হবে: আইআরজিসি

২ কোটি টাকার চেক প্রতারণায় রিজেন্টের সেই সাহেদ কারাগারে

১০

চট্টগ্রামে ট্রেন বন্ধ থাকায় রেলওয়ের ক্ষতি ৮৮ লাখ টাকা

১১

রাসায়নিক কীটনাশক কীভাবে কাজ করে?

১২

গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

১৩

সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় চীনের প্রতিক্রিয়া

১৪

মোজাফফরের বিচার কোর্ট মার্শালে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৫

শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড

১৬

বিলে ঝাঁপিয়ে ২ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

১৭

টানা বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ

১৮

গম্বুজ আর মিনারের মায়াবী শহর তুরস্কের ইস্তাম্বুল

১৯

সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল শুভেন্দু সরকার

২০
X