

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ফলে মামলাটি এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) ঘোষণা করেন। এর ফলে যেকোনো দিন মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চারজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এদিন আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষে তার যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
আদালতে এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মাধ্যমে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। পরে ১১ মে থেকে যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
গত ৭ জুন প্রসিকিউশন তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে এবং হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে। পরদিন ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরবর্তীতে গত বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি এখন চূড়ান্ত রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।