

সাইপ্রাসে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনএফআইসিআইওয়াইপি) ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের সাক্ষাৎ হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ও গৌরবের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম এনডিইউ, পিএসসি, পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তিনি আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করে সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কক্সবাজার এলাকার দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন তিনি।
মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন এবং অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ পুরষ্কারে ভূষিত হন। তিনি ‘অপারেশন কুয়েত পূর্ণগঠন’ নেতৃত্বে দিয়েছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সম্পর্কিত একটি ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এই সেনা কর্মকর্তা।
তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের চিফ ইন্সট্রাক্টর ও কমান্ড্যান্ট হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম অষ্টম সেনা কর্মকর্তা যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা আটটি বিভিন্ন দেশে এ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।