কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৩৭ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে, হুমকিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ‘এফসিটিসি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনারে কথা বলেন বক্তারা। ছবি : কালবেলা
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ‘এফসিটিসি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনারে কথা বলেন বক্তারা। ছবি : কালবেলা

তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে। এতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হুমকিতে পড়ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে তামাক ও অসংক্রামক রোগ : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ‘এফসিটিসি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে নারীদের মধ্যেও ধূমপান ব্যবহারের মাত্রা বাড়ছে। তারাও ই-সিগারেটের মতো ভয়ঙ্কর নেশায় বুঁদ হয়ে পড়ছে। তাই তরুণদের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে ই-সিগারেটের মতো ক্ষতিকর পণ্যের আমদানি, রপ্তানি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। এ জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার এফসিটিসির আলোকে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করতে হবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং পাবলিক হেলথ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর যৌথউদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও পাবলিক হেলথ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাবলিক হেলথ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণার বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী ও পাবলিক হেলথ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. নিজাম উদ্দীন আহমেদ। তারা বলেন, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে আমাদের দেশে অসংক্রামক রোগ যেমন- হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রোগ ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে। আর এই অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির কারণ মূলত ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার।

তারা আরও বলেন, দেশে তিন কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন তিন কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। আর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

সেমিনারে সভাপতি ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, তামাক ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে। এর কারণ বাংলাদেশ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ এবং তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রণোদনা নির্মিত করার ক্ষেত্রে এখনো সর্বোত্তম মান অর্জন করতে পারেনি। তাই প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিদ্যমান তামাকনিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তামাক নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পাবলিক হেলথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. এ এস এম শহিদুল্লাহ, ডা. নাদিরা সুলতানা, পুষ্টিবিদ তাসনিমা হক, সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, বিদ্যমান আইনের ছয়টি ধারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেগুলো হলো- আইনের ধারা ৪ ও ৭ বিলুপ্ত করা, অর্থাৎ সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহণে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান নিষিদ্ধ করা। তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা তামাক কোম্পানির যে কোনো ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা। তামাকজাতদ্রব্যের প্যাকেট/কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা। বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন এবং খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা। ই-সিগারেটসহ সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধের নির্দেশ ডিসি সারওয়ারের

ফেনীতে ইয়াবাসহ তাঁতী দল নেতা গ্রেপ্তার

সেই ঘটনায় ১৬ বছর পর প্রভার পাশে শিহাব শাহীন, তুললেন বিচারের প্রশ্ন

পরিবর্তন হচ্ছে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম

নতুন যুদ্ধবিরতির পরপরই লেবাননে ইসরায়লের ১২ হামলা  

‘পুকুর-ফিশারিজের জন্য সড়ক যেন নষ্ট না হয়’

ভক্তদের চাহিদায় বাড়ছে বিটিএসের শো

শিক্ষায় গুরুত্ব দিলে বিশ্বের এক নম্বর জাতি হওয়া সম্ভব : শিক্ষামন্ত্রী

ফুটবলযুদ্ধ নিয়ে নাটক ‘ফ্যান অব ব্রাজেন্টিনা’

জীবনের গল্প নিয়ে আসছে ‘চাওয়া পাওয়া’

১০

দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টির দাপট থাকবে আরও ৫ দিন

১১

ফেনী জেলা যুবদলের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

১২

প্রতিবেশী দেশ মাদক ঢুকিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায় : প্রতিমন্ত্রী টুকু

১৩

ব্রাজিল ম্যাচে থাকবে রানীর শয়নকক্ষে পাওয়া ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল

১৪

অফিসার্স ক্লাবে রূপালী ব্যাংকের নতুন এটিএম বুথ উদ্বোধন

১৫

প্রজ্ঞাপনের পর চাকরিরত ও পেনশন-অবসরে যেসব সুবিধা বাড়ল

১৬

ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, স্বর্ণের চেইন-টাকা লুট

১৭

এলপিএলের জন্য সাকিব আল হাসানকে এনওসি দিল বিসিবি

১৮

বিয়ে বাড়িতে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

১৯

কূটনৈতিক চাপ / হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল

২০
X