

চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দুটি নদীর তিনটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার (২২ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলী স্টেশনে পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর ছাতক স্টেশনের পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭৫টিতে পানি বাড়ছে, ৪৬টিতে কমছে ও ছয়টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। এখন সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এছাড়া হরিদাসপুরে ৫৮ মিলিমিটার ও জাফলংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় থাকায় বৃষ্টির এ প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী এক দিন বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
অন্যদিকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।
এছাড়া আত্রাই নদের পানি বাড়ার কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নওগাঁর নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কায় বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
তবে নেত্রকোনায় সোমেশ্বরী নদীর পানি কমতে থাকায় আগামী তিন দিনে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শুক্রবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী পাঁচদিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় ও বাংলাদেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার নোয়াখালীর হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।