

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীটি বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যরা নিজস্ব কোনো নিয়ম প্রয়োগ করেন না; বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নির্দেশনা, নীতিমালা এবং প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন করেন।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এ বক্তব্য জানায়।
বাহিনীর উপপরিচালক (গণসংযোগ) মো. আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কিছু ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার আংশিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রচারিত হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি এবং ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আনসার জানায়, সরকারি স্থাপনার আইনগত ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, চিত্র ধারণ কিংবা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নীতিমালা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন, যা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়।
বাহিনীটি আরও উল্লেখ করে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ ভূমিকার প্রতি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন-বিধির যথাযথ প্রতিপালন—উভয়ই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। এ ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করলে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য অংশীজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পেশাদার আচরণ, আইনগত সচেতনতা ও কার্যকর সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, বাহিনীটি কারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা আইনসম্মত পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিবন্ধক নয়। বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব অংশীজনের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করাই তাদের অঙ্গীকার।