

ঢাকা–১৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী এবং ‘মায়ের ডাক’র প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে যদি আমি নির্বাচিত হই, তাহলে আমার সঙ্গে নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সবাইকে পাশে নিয়ে কাজ করব। তাদের মূল্যবান পরামর্শ গ্রহণ করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও সমন্বিত উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলতে চাই।’
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে দিনব্যাপি ঢাকা-১৪-এর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তুলি বলেন, ‘রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়, সেবার। আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করব, যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও মতামত জানাতে পারেন। আমার কোনো ভুল হলে এলাকাবাসী যেন আমাকে সংশোধন করার সুযোগ পান।’
পরিবেশ ও পর্যটনভিত্তিক উন্নয়নের অঙ্গীকার
তুলি বলেন, ‘ঢাকা–১৪ এলাকায় জাতীয় উদ্যান ও জাতীয় চিড়িয়াখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব সম্পদ সংরক্ষণ করে রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।’
তার ভাষায়, পরিবেশ ও পশুপাখি সংরক্ষণ করে ইকো-ট্যুরিজম ও স্থানীয় উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে, বেকারত্ব কমবে। এতে সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও মাদক অনেকাংশে দূর হবে।’
যুব ও নারীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি
নির্বাচিত হলে যুব ও নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেকার যুবকদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।’
দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
তুলি বলেন, ‘নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারলে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি দেশ শক্তিশালী হয়।’
ঐক্য ও সহমর্মিতার রাজনীতির আহ্বান
প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এত রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ধ্বংস করা যায় না। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। দিন শেষে আমরা সবাই ভাই-বোন। ঐক্যবদ্ধ হলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
এলাকাবাসীর উদ্দেশে তুলি বলেন, ‘আপনারা আমার পাশে থাকেন। একবার বোনকে সুযোগ দিন। ইনশাল্লাহ ঢাকা–১৪ আসনের চেহারা বদলে দেবো।’
স্লোগানে মুখরিত গণসংযোগ
গণসংযোগকালে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরো এলাকা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘তারেক রহমানের সালাম, ঘরে ঘরে পৌঁছে দিলাম’; ‘মায়ের ডাকের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’; ‘মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত ঢাকা–১৪ চাই’ ইত্যাদি।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, সমস্যা শোনা এবং ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে দিনব্যাপী গণসংযোগ শেষ করেন সানজিদা ইসলাম তুলি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা দিয়ে তুলি তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের কাছে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন