রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীতে শহরের তুলনায় গ্রামে ভোটার উপস্থিতি বেশি, কারণ কী

ছবি : কালবেলা
ছবি : কালবেলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজশাহীতে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। তবে জেলার কোথাও বড় ধরনের সহিংসতা বা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি; সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে গড়ে প্রায় ৭০ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। জেলায় মোট ২২ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ জন নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। তাঁরা ৭৭৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। সব আসনেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি গ্রামপ্রধান গ্রাম ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে প্রায় ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে সর্বনিম্ন, প্রায় ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছে জেলা সদরের শহরকেন্দ্রিক রাজশাহী-২ আসনে। বাকি চারটি আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭১ থেকে ৭৪ শতাংশের মধ্যে।

রাজশাহী-২ আসনের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরের কেন্দ্রগুলোতে দিনভর ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। নগরের উপশহর এলাকার রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। সোপুরা অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুর রাজ্জাক।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের চিত্র ছিল ভিন্ন। রাজশাহী-৩ আসনের মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ। একই কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, তাঁর বুথেই ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। একই আসনের বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দুপুর ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্তই প্রায় ৭১ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

শহর-গ্রাম ভোটার উপস্থিতির এ ব্যবধানের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, শহরাঞ্চলে তুলনামূলক কম উপস্থিতির নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রশাসনের কাছে নেই।

তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নাগরিক প্রতিনিধিরা এ প্রবণতার পেছনে কাঠামোগত ও আচরণগত বিভিন্ন কারণের কথা বলছেন। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি দীপক দাস বলেন, শহরে ভোটার অনুপস্থিতি, পছন্দের প্রার্থী না থাকা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতা ভোটার উপস্থিতি কমার অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব বৃদ্ধি এবং স্বল্পমেয়াদি সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতাও ভোটদানের আচরণে প্রভাব ফেলছে।

কালবেলা/এএএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কঠোর হলো ভারতীয় বোর্ড, আনল ৫ নতুন নিয়ম

বুয়েটের নতুন প্রোভিসি হলেন ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম

হাদিস অনুযায়ী যে সময় শিশুদের বাইরে রাখা উচিত নয়

বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ বিতরণ ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের: জ্বালানিমন্ত্রী

স্টোর রুমে নিয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

যশোরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ / সাবেক এমপি মনিরুলসহ চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম নেই: ইরান

মেসিকে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার ঘোষণা আইএফএফএইচএসের

নিউইয়র্কে একক কনসার্টে গান শোনাবেন অভিনেতা অপূর্ব

১০

এনআরবি ব্যাংক-নগদের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি

১১

দল থেকে বহিষ্কার, গাজী নজরুলের এমপি পদ কি থাকবে?

১২

সাঁতার জানতেন না কাউসার, সহকর্মীকে উদ্ধারে গিয়ে হারালেন প্রাণ

১৩

রাত ১টার মধ্যে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৪

অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জগঠন পেছাল

১৫

আইইউবিএটি ও লে মেরিডিয়ান ঢাকার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

১৬

কাল মুক্তি পাচ্ছে বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা

১৭

এলএল.বি ফল-২০২৬ / ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

১৮

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশ সদস্য নিহত

১৯

গাজী নজরুলকে নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ইসিকে জানাবে জামায়াত

২০
X