কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

টেকনোক্রেট মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় এমএ কাইয়ুম

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানামুখী সমীকরণ। এই সমীকরণে ঢাকার রাজনীতির পরিচিত মুখ এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ও ঋণবিষয়ক সম্পাদক এমএ কাইয়ুমকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে নতুন মন্ত্রিসভায় ‘টেকনোক্রেট’ কোটায় স্থান দেওয়া হতে পারে। এমন জোর আলোচনা এখন বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এমএ কাইয়ুম কেবল একজন সফল রাজনীতিবিদই নন, বরং একজন উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তার ঝুলিতে রয়েছে বিএ ও এমএ ডিগ্রিসহ সম্মানসূচক ডি.লেট ডিগ্রি। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। স্বদেশ প্রপার্টিস লিমিটেড ও নাভিদ বিল্ডার্স লিমিটেডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তার প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত। এই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি তার মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএ কাইয়ুমের রাজনৈতিক জীবন বর্ণাঢ্য এবং সংগ্রামের। ১৯৮১ সালে বৃহত্তর গুলশান থানা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে তার রাজনীতির যাত্রা শুরু। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে বাড্ডা থানা ও ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তার সফল নেতৃত্ব দলকে এক কঠিন সময়ে সুসংগঠিত করেছিল। বিগত স্বৈরাচারী শাসনের আমলে নানা জুলুম-নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিচলিত হননি এবং দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

১৯৯৪-২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৯ বছর তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাড্ডা-গুলশান লিংক রোড সংযোগ, বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে তিনি নিজেকে একজন সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১০ (বর্তমান ঢাকা-১১) আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি লড়াই করেছিলেন এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এমএ কাইয়ুম শুধু একজন নেতাই নন, তিনি বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা এলাকার সাধারণ মানুষের বিপদের বন্ধু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং আর্তমানবতার সেবায় তার অবদান অসামান্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মাঠের সক্রিয় যোদ্ধা হিসেবে তার যেমন খ্যাতি রয়েছে, তেমনি প্রশাসনিক কাজেও তার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘এমএ কাইয়ুম দলের একজন বিশ্বস্ত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তার মতো বিচক্ষণ ও শিক্ষিত মানুষকে মন্ত্রিসভায় প্রয়োজন। টেকনোক্রেট কোটায় তাকে মন্ত্রী করা হলে তা হবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের যোগ্য স্বীকৃতি।’

কালবেলা/নূর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সন্দেহজনক কার্গো জাহাজ জব্দ করল দক্ষিণ কোরিয়া

গাজীপুরে হাজীর মাজার বস্তিতে পুলিশের অভিযান

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

ময়মনসিংহে প্রতারক হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ভিডিও বিতর্কে গাজী নজরুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ জামায়াত এমপি এনামুলের

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণ গ্রুপ, আবেদন শেষ ৩১ জুলাই

‘তাদের উচ্ছ্বাস আমার পুরো দিনটাকে আনন্দময় করে তুলল’

ফের পিছিয়ে উত্তর কোরিয়ার কাতারে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

৩০০ তরুণ-তরুণীকে চাকরি দেবে বেসরকারি সংস্থা, বেতন ১৮ হাজার

ফ্রান্সে দাবানলে পুড়েছে ৬ হাজার একরের বেশি এলাকা

১০

সাতক্ষীরায় গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

১১

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেক্সটাইল মিলস নেতাদের সাক্ষাৎ

১২

সাতক্ষীরায় চড়া পেঁয়াজ-রসুনের দাম, বিপাকে ক্রেতারা

১৩

আজও বিশ্ববাজারে বাড়ল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

১৪

সড়কের পাশে যুবকের মরদেহ, হত্যার দাবি পরিবারের

১৫

শাহ্ সিমেন্টের টাইটেল স্পন্সরশিপে আসছে আতিফ আসলামের মেইন স্টেজ শো

১৬

পুরোনো ফোন কেনার সময় যে ১০ বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত

১৭

ইরানের হাতে হরমুজ গেলে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকি তৈরি হবে: রুবিও

১৮

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টের রুল

১৯

লন্ডনের আন্তর্জাতিক স্কাউট জাম্বুরিতে যোগ দিচ্ছে শরীয়তপুরের ৩ স্কাউট

২০
X