কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সংরক্ষিত নারী আসনে পাবনা থেকে আলোচনায় অ্যাডভোকেট রুমা

অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা। ছবি : কালবেলা
অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা। ছবি : কালবেলা

নতুন সরকারের সংসদীয় কার্যক্রমে নারী নেতৃত্বের অংশীদারত্ব বাড়াতে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। এই দৌড়ে পাবনা জেলা থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম আর দলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে তাকে সংসদে দেখতে চান তার এলাকার মানুষ ও দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে চাটমোহর উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বিগত দেড় দশকেও বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আরিফা সুলতানা রুমার সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ইডেন কলেজে থাকাকালীন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর অসংখ্যবার পুলিশের বাধা ও হামলার শিকার হন তিনি। রাজনৈতিক কারণে বারবার জেল-জুলুম এবং অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা মোকাবিলা করেও তিনি রাজপথ ছাড়েননি।

জানা গেছে, দলের দুঃসময়ে জিয়া পরিবারের প্রতি তার প্রশ্নাতীত আনুগত্য ও নিষ্ঠা দলের হাইকমান্ডের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে তিনি সবসময় সম্মুখসারিতে ছিলেন।

স্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেন, ‘রুমা আপা রাজপথের পরীক্ষিত নেত্রী। তার মতো ত্যাগী নেত্রীদের সংসদে পাঠানো হলে, তা দলের তৃণমূল কর্মীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হবে।’

জানা যায়, ১/১১ থেকে রাজনীতিতে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন দলের ঘোষিত সকল কর্মকাণ্ডে সম্মুখ সারিতে থাকা অ্যাডভোকেট রুমা জোরালোভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে চক্ষুশূল হন পতিত শেখ হাসিনার সরকারের। তাকে রাজনীতি থেকে দমাতে দেওয়া একাধিক মিথ্যা মামলার আসামি রুমা ২০১৮ সালে কারাভোগ করেন। শুধু তাই নয় মানসিকভাবে নির্যাতন চালাতে ৮ দিন ধরে রিমান্ডে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইডেন কলেজ শাখার দু’বার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ইডেন কলেজে ছাত্রদলের সংগঠন সক্রিয় করতে রুমার ভূমিকা ছিল ঈর্ষান্বিত। তার নিজ রাজনৈতিক দক্ষতা ও যোগ্যতায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (টুকু-আলীম), কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (জুয়েল-হাবিব কমিটি) এরপর সহ-সাধারণ সম্পাদক (রাজীব-আকরাম কমিটি) দায়িত্ব পান।

এরপর পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন (সালাম-মজনু)। পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে (মজনু-রবিন) আবারও সদস্য হন। সেই সময় থেকে শুধু ঢাকায় নয় সারাদেশে বিএনপির দলীয় কার্যক্রম বেগবান করতে বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নিজস্ব এলাকা পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) এলাকায় নারী জাগরণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তার দায়িত্বের কারণেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলো নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে সরব এবং বেশি।

ওয়ান ইলেভেন থেকে মাঠে থাকা আরিফা সুলতানা দলের দুর্দিনে সরব ছিলেন। কেন্দ্র ঘোষিত সব ধরনের আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা বিভিন্ন হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হন তিনি। তবুও থেমে থাকেননি। হাসিনা সরকার বিরোধী আন্দোলনে সব সময় ছিলেন সামনের সারিতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন থেকে মাঠে ছিলাম। দলের দুর্দিনে নানা মেরুকরণ হয়েছে। কিন্তু আমার ঠিকানা ছিল বিএনপি ও জিয়া পরিবার। দলের জন্য কখনো কোথাও আপস করিনি। নারী জাগরণের অগ্রদূত ও সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করেছি। পরে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তাই সংরক্ষিত নারী এমপি প্রার্থী হিসেবে দলের কাছে মনোনয়ন আশা করি। আমার বিশ্বাস দল ত্যাগী একজন কর্মী হিসেবে আমাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করবেন।’

কালবেলা/এসওআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সূচি ঘোষণা, বড় সুযোগ টাইগারদের সামনে

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা

শুরুর আগেই শেষ মুস্তাফিজের দ্য হানড্রেড

ফেসবুকে তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট-পেজ, সতর্ক থাকার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবদল নেতার

সালমান শাহ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

৫ কোটি টাকার সড়ক কাজে ধীরগতি, যানজটে নাকাল মানুষ

মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিরসন হাইওয়ে পুলিশের অগ্রাধিকার

প্রিমিয়াম স্বাদের নতুন দুই আইসক্রিম বাজারে আনল পোলার

১০

৫০তম বিসিএস / লিখিত পরীক্ষার ছয় হাজার ১৬৫ জন উত্তীর্ণ

১১

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সঙ্গে কমেছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

১২

বিশ্বকাপ শেষ, ইউরো-কোপা আমেরিকা কবে কখন?

১৩

ভারত সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ককরোচ জনতা পার্টি

১৪

কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে ‘গ্লাসগো’ এখন উৎসবের নগরী

১৫

পদ্মা ব্যাংকের ১৪১ পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

১৬

গিফটি ফার্মা কাপ ২০২৬ / এক মঞ্চে দেশের ১২টি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি 

১৭

‘গ্রামে চিকিৎসার অভাবে আর কোনো প্রাণ ঝরবে না’

১৮

রাস্তার ইট চুরির মামলায় কারাগারে ৪ জন

১৯

বিশ্বকাপে ‘পাতানো ম্যাচ’ নিয়ে ফিফার প্রতিবেদন প্রকাশ

২০
X