

জাতীয় বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে পুনরায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
বুধবার (৩ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সাইফুল হক বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়বৃদ্ধিতে এমনিতেই সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে আর এক দফা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেবে এবং তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-র তীব্র সমালোচনা করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, পাইকারি ও ভোক্তা পর্যায়ে বাজেটের আগে এই মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেনি কমিশন।
বিইআরসি-র গণশুনানিকে ‘লোকদেখানো’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, তাদের মূল কাজই হচ্ছে সরকারের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে যেকোনো উপায়ে জায়েজ করা।
তিনি বিইআরসি’র বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের আহ্বান জানান, যাতে কেবল দাম বাড়ানোই নয়, বরং বিদ্যুতের দাম কমানোর ব্যাপারেও তারা সরকারকে আইনিভাবে সুপারিশ করতে পারে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অভ্যন্তরীণ সংকট তুলে ধরে সাইফুল হক বলেন, এই খাতে চুরি, দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা কমিয়ে আনতে পারলে এখন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কোনো প্রয়োজনই হতো না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এসব চুরি ও দুর্নীতির দায়ভার সাধারণ মানুষ কেন নেবে? তাদের কেন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে?
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে সরকারকে আরও বেশ কিছুকাল বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।
একইসঙ্গে, আগামী জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দসহ একটি সামগ্রিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান সাইফুল হক।