

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকতউল্লাহ বুলু বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে আমাদের মতো অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা হয় গুমের শিকার হতেন, নয়তো ক্রসফায়ারের শিকার হতেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষকে নতুন আশা ও সাহস জুগিয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে ‘২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভাসানী জনশক্তি পার্টির ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই আলোচনা হয়।
দলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও দলের মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিমের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আমিনুল ইসলাম সেলিম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বাবুল বিশ্বাস, বিলকিস খন্দকার, জামাল উদ্দিন জামালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানের মধ্যে মৌলিক কোনো বিভেদ নেই। একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও কোনো বিভেদ নেই। যারা এ দুটি বিষয়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তারা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে বিভেদ নয়, বরং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়েছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন, চেতনা ও জাতীয় ঐক্যকে কোনোভাবেই ব্যহত হতে দেওয়া যাবে না।
বক্তারা স্মরণ করেন যে, ২০২৪ সালের এই দিনেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের গুলিতে ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী আহত হন। বক্তারা ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আহতদের সাহসিকতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল যদি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে না নেয়, তাহলে সামনে ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।