ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৪ এএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

জুমার খুতবা চলাকালে কথা বলা কি জায়েজ?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের মধ্যে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত অন্যতম। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে এবং প্রথম প্রহরে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। দ্বিতীয় প্রহরে গেলে গরু কোরবানির সওয়াব, তৃতীয় প্রহরে গেলে ভেড়া, চতুর্থ প্রহরে গেলে মুরগি এবং পঞ্চম প্রহরে গেলে ডিম কোরবানির সওয়াব পাবে। এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে মিম্বারে ওঠেন, তখন ফেরেশতারা আর আমল লেখেন না, তারা খুতবা শুনতে থাকেন। (বোখারি : ৮৮১)

এদিকে জুমার নামাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো খুতবা। খুতবা চলাকালে নিশ্চুপ ও মনোযোগসহকারে তা শোনা ওয়াজিব। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেকে জুমার খুতবা চলাকালে মসজিদে বসে কথা বলেন, গল্প করেন। তাই অনেকেই জানতে চান, খুতবার সময় কথা বলা জায়েজ কি না।

চলুন, এ প্রসঙ্গে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জেনে নিই—

জুমা ও ঈদের খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ করা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কোনো ধরনের কথা বলা, কাজ করা নিষিদ্ধ। এমনকি তাসবিহ পড়াও নিষিদ্ধ।

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু যার (রা.) বলেন, একদিন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় সুরা বারাআত পাঠ করলেন। তখন আমি উবাই ইবনে কাআবকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ সুরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি চেহারা মলিন করলেন এবং চুপ থাকলেন। এভাবে পরপর তিনবার প্রশ্ন করার পরও তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে বারবার প্রশ্ন করার পরও কোনো উত্তর দিলেন না কেন? তখন উবাই (রা.) বললেন, (খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে) আপনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। আপনার অনর্থক কথা বলা হয়েছে। তখন আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে উবাই (রা.)-এর এ কথা জানালাম। জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উবাই ঠিকই বলেছে। ( সহিহ ইবনে খুজাইমা ২/৮৭৪, হাদিস : ১৮০৭)

হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী (রাহ). বলেন, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামাজ পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/১০৩-১০৪)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে কথা বলতে নিষেধ কর তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে। (সহিহ মুসলিম : ৮৫১)

উল্লিখিত হাদিস ও আসারের আলোকে ফকিহগণ খুতবা অবস্থায় মুকতাদির জন্য কোনো কথা বলা এবং তাসবিহ পড়াকে নিষিদ্ধ বলেছেন। তাই খুতবা চলাকালে মুকতাদির জন্য দরুদ শরিফ বা তাকবিরে তাশরিক বলা থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক।

সূত্র : মাসিক আল কাউসার

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্রীলঙ্কার বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ জন নিহত

কত দিন পরপর ছুটি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, জানাল গবেষণা

পেস বোলিং কোচের পর ফিল্ডিং কোচও হারাচ্ছে বাংলাদেশ

এসিল্যান্ডকে ‘উনি’ সম্বোধন করায় মন্ত্রীকে সম্মাননা দিতে পারলেন না বিএনপি নেতা

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের গর্ব, ফিফার অফিশিয়াল অ্যালবামে সঞ্জয়

শিক্ষা খাতের বাজেটে আসছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী

রাতের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

লেবাননে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, সার্বিয়ান শান্তিরক্ষী নিহত

অবশেষে বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী

বিশ্বকাপের আগেই পুরস্কার জিতলেন মেসি

১০

বিদ্যুতের আবাসিক গ্রাহকদের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বর্ধিত দাম প্রত্যাহার

১১

কলাটি কত নম্বরের সুতা দিয়ে বাঁধা হয়েছে?

১২

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

১৩

ট্রাক-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২

১৪

ঢাকায় ২ দিনব্যাপী সার্সোর ১১তম গভর্নিং বোর্ড সভা সম্পন্ন

১৫

মিথিলার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মাহি

১৬

জামিনে মুক্তি পেয়েও ফের জেলগেটে আটক আওয়ামী লীগ নেতা

১৭

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগেই গুরুকে হারালেন নাহিদ-মোস্তাফিজরা

১৮

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এলে অর্ধেক ভিজিটের ঘোষণা চিকিৎসকের

১৯

সরকার আওয়ামী লীগের লাশকেও ভয় পায় : হাছান মাহমুদ

২০
X