ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

যেসব কাজ হজের মহিমা ক্ষুণ্ণ করে

আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ-এর দিকে রওনা হওয়া মানে শুধু একটি ভ্রমণ নয়; বরং এটি আত্মার পরিশুদ্ধি, গোনাহ থেকে ফিরে আসা এবং রবের নৈকট্য অর্জনের এক মহাসুযোগ | ছবি : সংগৃহীত
আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ-এর দিকে রওনা হওয়া মানে শুধু একটি ভ্রমণ নয়; বরং এটি আত্মার পরিশুদ্ধি, গোনাহ থেকে ফিরে আসা এবং রবের নৈকট্য অর্জনের এক মহাসুযোগ | ছবি : সংগৃহীত

হজ বান্দার প্রতি স্রষ্টার হক। ঈমানের আলোকিত নিদর্শন। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মানুষের ওপর আল্লাহর বিধান ওই ঘরের হজ করা, যার আছে সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য। (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)

সুতরাং হজ আল্লাহর বিধান, আল্লাহর হক। মেহেরবান আল্লাহ এ বিধান কত সহজ করে দিয়েছেন! শুধু সামর্থ্যবানদের জন্য তা ফরজ। তাও আবার সারাজীবনে মাত্র একবার করা।

বিখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হজ একবার। এরপর যে বেশি করে তা ঐচ্ছিক।’ (মুসনাদে আহমদ : ১২০৪)

হজের মাধ্যমে মহান আল্লাহ বান্দার সারা জীবনের গোনাহ মাফ করে দেন। তবে শর্ত হলো, হজের মহিমা ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। আল কোরআনে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেসব মাসে (ইহরাম বেঁধে) নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয়, সে হজের সময়ে কোনো অশ্লীলতায় লিপ্ত হবে না, কোনো গোনাহ করবে না এবং ঝগড়াও নয়। তোমরা যা কিছু সৎকর্ম করবে আল্লাহ তা জানেন। আর (হজের সফরে) পথ খরচ সঙ্গে নিয়ো। বস্তুত তাকওয়াই উৎকৃষ্ট অবলম্বন।’ (সুরা বাকারা: ১৯৭)

উল্লিখিত আয়াতে হজের মহিমা ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কাজগুলো সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

১. অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকা

হজের ইহরাম বেঁধে ফেলার পর যেসব কাজ নিষিদ্ধ, তার মধ্যে একটি হলো অশ্লীলতায় জড়ানো। সাধারণত হজপালনকারীরা দৃশ্যমান কোনো অশ্লীলতায় না জড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু কাজ তাদের অনেককে সূক্ষ্মভাবে অশ্লীলতায় লিপ্ত করে ফেলে, তা তারা হয়তো অনুভবও করেন না।

যেমন-হজের ইহরাম অবস্থায় স্মার্টফোন, ট্যাব অতিরিক্ত ব্যবহার করলে কোনো না কোনো সময় এমন কিছু দেখে বসে, যা দেখা তাঁর জন্য হারাম ছিল, যাতে অশ্লীলতা ছিল। অথবা অডিও-ভিডিও কলে তার পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অজান্তে এমন শব্দ প্রয়োগ করে বসলেন, যে শব্দ ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করার সুযোগ নেই। অথচ হজ আল্লাহর গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য এসব কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি ছিল।

২. নজরের হেফাজত করা

হজপালনকারীদের জন্য হজের মহিমা রক্ষা করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি তৈরি হয় নজরের হেফাজত দিয়ে। প্রতিটি মুসলমানের জন্য সর্বাবস্থায়ই নজরের হেফাজত করা ফরজ (সুরা নুর : ৩০-৩১), যা ভঙ্গ করা কবিরা গোনাহের শামিল। অথচ হজপালনকারীরা বিমানবন্দরের রিসেপশন থেকে শুরু করে উড়োজাহাজযোগে সৌদি আরব পৌঁছা এবং সেখানকার বিমানবন্দর পার হওয়া পর্যন্ত পদে পদে তার সামনে এমন সব মানুষ থাকবে, যাদের দিকে তাকানো তার জন্য হারাম ছিল। মুমিনের উচিত, এই কঠিন মুহূর্তগুলোয় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে থাকা।

৩. গিবত থেকে বেঁচে থাকা

হজের সফরেও অনেক সময় মানুষ তাদের চিরাচরিত অভ্যাস থেকে বের হতে পারে না, ফলে সেখানে গিয়েও নিজের অজান্তেই মাঝেমধ্যে এজেন্সি, সহযাত্রী ইত্যাদির বিরুদ্ধে অহেতুক গিবতে লিপ্ত হয়। অথচ গিবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য গোনাহ। (তাবরানি)

৪. অহংকার না করা

হজের সফরে কথায়, কাজে বা আচরণে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা অহংকারের পর্যায়ে চলে গিয়ে এই ইবাদতের মহিমা নষ্ট করে দেবে। কেননা মহান আল্লাহ অহংকারীকে ভালোবাসেন না। (সুরা নাহল : ২৩)

৫. সময় নষ্ট না করা

হজের সফরে প্রতিটি মুহূর্তই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়, তাই একটি মুহূর্তও যেন অনর্থক না কাটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। পবিত্র কোরআনে সফল মুমিনদের গুণাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা মুমিনুন: ৩)

৬. লোক দেখানো ইবাদত

অনেকে আবেগ সামলাতে না পেরে সেখানে এত বেশি ফটো সেশন করে, যা উপস্থিত হাজিদেরও বিরক্তের কারণ হয়। তাই হজের সফরে কারণ ছাড়া এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

৭. ঝগড়া থেকে দূরে থাকা

হজের সফরে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। তাই সেখানে অহেতুক তর্কবিতর্ক, অমূলক অভিযোগ, অসহিষ্ণুতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৮. হজে গিয়ে হাত পাতা

অনেক দেশের মানুষকে দেখা যায়, হজে গিয়ে হাত পাতেন, এটা কোনোভাবেই উচিত নয়।

উল্লিখিত কাজগুলো বাদ দিয়ে হজের সফরে সর্বোচ্চ তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ প্রত্যেকের মনের অবস্থা জানেন, যার তাকওয়া যত উন্নত হবে, তার হজও তত গ্রহণযোগ্য হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, থাকবে কদিন?

পশ্চিম তীরের বসতিতে কর ছাড়ের আইন পাস ইসরায়েলের

নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হলো মুনতাহা

শত্রুরা ইরানের জনগণের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে : মোজতবা খামেনি

মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : চেয়ারম্যান

‘জামায়াত নেতার বেদে মেয়েদের চুল কেটে দেওয়ার’ দাবিটি ভুয়া

কক্সবাজারে মাটিচাপায় দুই শ্রমিক নিহত

উন্নয়ন বরাদ্দের তালিকায় অস্তিত্বহীন মসজিদ, বিএনপি নেতাকে শোকজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

১০

দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে : স্টেফান লিলার

১১

ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ডিএসসিসির ৬৩ ওয়ার্ড, ২৭টি চরম ঝুঁকিপূর্ণ

১২

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা

১৩

থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানো সেই ওসি প্রত্যাহার, মামলার প্রস্তুতি

১৪

এনসিপির এক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

১৫

নির্বাচনের আগেই তারা আমাকে হারিয়ে দিয়েছিল : মির্জা ফখরুল

১৬

বিশ্বকাপের ভেন্যুতে নিষিদ্ধ হলো পানির বোতল

১৭

নতুন চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার পেল বিএসইসি

১৮

একাকী অনুশীলন করছেন মেসি

১৯

বিএসইসির চেয়ারম্যান হলেন ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মাসুদ খান

২০
X