ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কোরবানি কেন ওয়াজিব?

কোরবানি কেন ওয়াজিব ইসলামিক দলিল হাদিস ও কোরআনের ব্যাখ্যা
ইসলামে সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব | ছবি : সংগৃহীত

বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবারও উপস্থিত হচ্ছে পবিত্র জিলহজ মাস। এই মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মহিমান্বিত আমল হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর কোরবানি করা একটি ‘ওয়াজিব’ বা অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত। কিন্তু কেন এই কোরবানি ওয়াজিব এবং এর গুরুত্বই বা কতটুকু, তা প্রত্যেক মুসলিমের জেনে রাখা প্রয়োজন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কঠোর হুঁশিয়ারি

কোরবানি যে একটি ওয়াজিব আমল, তার প্রমাণ পাওয়া যায় নবী করীম (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘যার কোরবানি করার সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)

সামর্থ্য থাকার পরও যারা এই ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে তাদের প্রতি নবীজির (সা.) এই কঠোর হুঁশিয়ারিই প্রমাণ করে যে, এটি কেবল ঐচ্ছিক কোনো আমল নয়, বরং একটি আবশ্যকীয় ইবাদত।

সহিহ বোখারির আলোকে দলিল

বোখারি শরিফের বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’-তে বর্ণিত ৯৮৫ নম্বর হাদিসটি এক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হাদিস অনুসারে, নবী কারিম (সা.) ঈদের নামাজ আদায় করলেন, অতঃপর খুতবা দিলেন এবং তারপর পশু জবেহ করলেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, যদি কেউ ঈদের নামাজের আগে পশু জবেহ করে ফেলে, তাকে ওই পশুর বদলে পুনরায় আরেকটি পশু কোরবানি দিতে হবে।

ইসলামি স্কলারদের মতে, কোরবানি যদি ওয়াজিব না হতো, তবে নামাজের আগে জবেহ করার কারণে পুনরায় তা আদায় করার (কাজা করার) নির্দেশ দেওয়া হতো না। ভুল সময়ে করার কারণে পুনরায় আদায়ের এই নির্দেশই প্রমাণ করে যে সামর্থ্যবানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিশান

বিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’-তে (২৩তম খণ্ড, ৮০ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করেছেন যে, কোরবানির বিধান ইসলামের একটি সুষ্পষ্ট ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার মতে, কোরবানি হলো ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই সুমহান নিদর্শনের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তা যথাযথভাবে পালন করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

উৎসব নয়, বরং একনিষ্ঠ ইবাদত

আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, কোরবানি কেবল গোশত খাওয়া বা সামাজিক কোনো উৎসবের নাম নয়। এটি একটি মহান ইবাদত যা অত্যন্ত যত্ন ও গুরুত্বের সাথে আদায় করতে হয়। অন্যান্য ওয়াজিব আমল আমরা যেভাবে গুরুত্বের সাথে পালন করি, কোরবানিও ঠিক সেভাবেই তাকওয়ার সাথে আদায় করা উচিত।

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরারের বয়ান অবলম্বনে

কালবেলা/এটিআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম নেই: ইরান

মেসিকে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার ঘোষণা আইএফএফএইচএসের

নিউইয়র্কে একক কনসার্টে গান শোনাবেন অভিনেতা অপূর্ব

এনআরবি ব্যাংক-নগদের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি

দল থেকে বহিষ্কার, গাজী নজরুলের এমপি পদ কি থাকবে?

সাঁতার জানতেন না কাউসার, সহকর্মীকে উদ্ধারে গিয়ে হারালেন প্রাণ

রাত ১টার মধ্যে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জগঠন পেছাল

আইইউবিএটি ও লে মেরিডিয়ান ঢাকার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

কাল মুক্তি পাচ্ছে বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা

১০

এলএল.বি ফল-২০২৬ / ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

১১

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশ সদস্য নিহত

১২

গাজী নজরুলকে নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ইসিকে জানাবে জামায়াত

১৩

বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবল দলের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র: রাশিয়া

১৪

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

১৫

অবৈধ সিসা কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়ে ২ লাখ জরিমানা

১৬

এসিল্যান্ড হচ্ছেন প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা

১৭

দেশে কত দিনের জ্বালানি তেলের মজুত আছে, জানাল মন্ত্রণালয়

১৮

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত / জামায়াত এমপি গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার

১৯

বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড আয় ফিফার, অঙ্ক শুনলে চমকে যাবেন

২০
X