

রমজানকে বলা হয় ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাস আল্লাহর নৈকট্য ও পুণ্য লাভের সর্বোত্তম সময়। রমজান মাসে আল্লাহ রহমতের দুয়ার খুলে দেন এবং প্রতি নেক কাজের প্রতিদান বহু গুণ বৃদ্ধি করেন।
তবে রমজানের পর মানুষের মধ্যে আগের মতো আমল-ইবাদতের প্রতি তেমন আসক্তি দেখা যায় না। অনেকে ফরজ ইবাদতগুলো পালন করতেও অবহেলা করেন।
কিন্তু রমজানে আমলের এই অনুশীলন পুরো বছর ধরে রাখা উচিত। রমজান পরবর্তী সময়েও যেসব আমলের প্রতি যত্নশীল হওয়া আবশ্যক তা তুলে ধরা হলো-
রমজানের বাইরে বাকি ১১ মাস অর্থাৎ পুরো বছর নামাজ আদায় করা ফরজ। ফরজ নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করাও ফরজ। প্রত্যেক নামাজের জন্যই সময় নির্ধারণ করা আছে।
নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন- ‘নিশ্চয় নামাজকে ইমানদারের জন্য নির্ধারিত সময়ে (আদায় করা) আবশ্যক কর্তব্য করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১০৩)
রমজানে ইতিকাফ ও নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার কারণে মসজিদের সঙ্গে এক ধরনের আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠে। মসজিদে বেশি বেশি যাওয়া আসা করা হয়। মসজিদে বেশি বেশি যাতায়াতের এই গুণটি প্রশংসনীয়। রমজানের পরেও মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।
কোরআন নাজিলের মাস রমজানে প্রায় সব মুসলমানই কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি যত্নশীল হয়ে থাকেন। কিন্তু রমজানের পর পুরো বছর কোরআনের সঙ্গে তেমন কোনো সম্পর্ক থাকে না। রমজানের বাইরেও পুরো বছর কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত।
তাহাজ্জুদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের উপায়। রমজানে শেষ রাতে সেহরিতে ওঠার কারণে অনেকেই সহজে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে পারতেন। কিন্তু বছরের অন্য সময় গভীর ঘুমের কারণে সবার পক্ষে তাহাজ্জুদ পড়া হয়ে উঠে না। কিন্তু রমজানের বাইরেও পুরো বছর তাহাজ্জুদের ফজিলত লাভে যত্নশীল হওয়া উচিত।
মিথ্যা বলা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া গর্হিত অপরাধ। মিথ্যাবাদীর পক্ষে যে কোনো ধরনের পাপ করা সম্ভব। কেননা সে পাপ কাজ করে খুব সহজে তা অস্বীকার করতে পারে। মিথ্যা কখনো কখনো মিথ্যাবাদীকে জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং মিথ্যা বলতে বলতে পরিশেষে সে আল্লাহ তাআলার কাছে মিথ্যুক হিসেবে পরিগণিত হয়।
রমজান মাসে প্রতিটা মানুষ চেষ্টা করে যতটা সম্ভব পাপাচার থেকে দূরে থাকা। আর মিথ্যা মহাপাপ। রমজান মাস থেকে চেষ্টা শুরু করলে মানুষ পরেও এই অভ্যাস বজায় রেখে মিথ্যা থেকে দূরে থাকতে পারে।
রমজানে মানুষ অধিক সওয়াবের আশায় দান-সদকা করে থাকে। রমজানের বাইরেও দান-সদকার অভ্যাস বজায় রাখা উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের সম্পদে গরিব-অসহায়দের অধিকার রয়েছে’। (সূরা যারিয়াত, আয়াত, ১৯)
রমজান এবং রমজানের বাইরে সারা বছর সমাজের বিধবা, এতিম ও দুস্থদের সাহায্য-সহযোগিতা করা বড় ইবাদত। রমজান মাসে এ অভ্যাস শুরু করে রমজান পরবর্তী সময়েও এই অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিধবা ও মিসকিনদের সমস্যা সমাধানের জন্য ছোটাছুটি করে সে যেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে লিপ্ত।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৯৮২)