মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রাথমিকের প্রশ্নফাঁস ইস্যু, সমাধানে করণীয় জানালেন এনসিপি নেতা মিরাজ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। একই সঙ্গে পরীক্ষা বাতিলের দাবিও তুলেছেন তাদের একটি অংশ। এ অবস্থায় প্রাথমিকের প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে করণীয় জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি।

পোস্টে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের স্পষ্ট আলামত শিক্ষার্থীদের কাছে রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। প্রাথমিকে এমনিতেই মেধাবীরা আসতে চায় না, কিংবা চাকরি হলেও নানা অনিয়ম আর স্বল্প সুবিধার কারণে পরবর্তী সময় অন্য ভালো চাকরিতে শিফট করে ফেলে। সেখানে প্রশ্নফাঁস চক্র ও ডিভাইস চক্রের মাধ্যমে শিক্ষক হয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি প্রাথমিক এডুকেশনকেই ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক দলেরই কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। রাষ্ট্রের প্রতিটি নিয়োগ মেধাভিত্তিক হওয়ার দাবিটিই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান মূল আকাঙ্ক্ষা।

এ মুহূর্তে ৫টি কাজ খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে—

১. প্রশ্নফাঁসের পুরো চক্র যতই শক্তিশালী হোক না কেন সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। যেন ভবিষ্যতে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের সাহস না করে।

২. জেলাভিত্তিক পরীক্ষা না নিয়ে শুধু ঢাকা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষাগুলো নেওয়া।

৩. প্রাইমারি যেহেতু অনেক বড় সেক্টর, সেক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁস রোধে শুধু প্রিলি আর সংক্ষিপ্ত ভাইভার পরিবর্তে লিখিত পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার মতো করা যেতে পারে; একই সঙ্গে প্রিলি লিখিত পরীক্ষা। যারা প্রিলি উত্তীর্ণ হবে তাদেরই লিখিত খাতাটা দেখা হবে। সময়ও কম লাগবে।

৪. আসন্ন নির্বাচনের পরেই তিনটি কর্মকমিশন হচ্ছে (জেনারেল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য)। পরবর্তী প্রাইমারি পরীক্ষাগুলো পিএসসি (শিক্ষা) কর্তৃক নেওয়া। সম্পূর্ণ আর্থিক অটোনমি দিয়ে তিনটা পিএসসিকে যদি সুষ্ঠুভাবে ফাংশন করানো যায় এবং নিয়োগ পরীক্ষাগুলো যদি ধীরে ধীরে পিএসসির অধীনে নিয়ে আসা যায়, তাহলে অন্তত মেধাভিত্তিক নিয়োগটা নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর তরুণদের ট্রাস্ট বৃদ্ধি পাবে।

৫. মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং উপরিউক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব, যদি এই বিষয়ে পলিসি মেইকার আর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম সিরিয়াসনেস থাকে। রাজনৈতিক নেতারা আর দলগুলোই বোঝেই না যে, এটা এদেশের লাখো তরুণের কত বিশাল স্বপ্ন, যে তাদের পরীক্ষাগুলো ফেয়ার ও মেধাভিত্তিক হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার সতর্কবার্তা

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

প্রেম করছেন নোরা ফাতেহি, প্রেমিক কে?

অতীতে কারা দায়মুক্তি দিয়েছিলেন? জুলাই যোদ্ধাদের কী হবে

ইরানের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

অবশেষে কমতে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম

হাজার কোটির সম্পত্তি ফিরে পেলেন সাইফ

মাঠে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করলেন নুরুদ্দিন অপু

হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনার মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি

প্রবাসীদের সুসংবাদ দিলেন আসিফ নজরুল

১০

পে-স্কেল নিয়ে নতুন যে তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

১১

সেনা অভিযানে বিএনপি নেতা আটক, ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মৃত্যু 

১২

‘আ.লীগ করে ভুল বুঝতে পেরেছি’

১৩

ইরানে বিক্ষোভের পেছনে কারা, যা জানাল তুরস্ক

১৪

মোবাইল ফোন আমদানিতে বড় সুখবর দিল এনবিআর

১৫

ঢাকায় ফিরল বিপিএল, কবে কখন কার খেলা—একনজরে সূচি

১৬

শীতে বেড়েছে চর্মরোগ, হাসপাতালে রোগীর চাপ 

১৭

আলোনসোকে বরখাস্ত করার পরও রিয়ালের সমস্যা সহজেই শেষ হচ্ছে না

১৮

অনৈতিকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স / মানিকগঞ্জের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে আনসার ও ভিডিপি

১৯

কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত ৩

২০
X