

সম্প্রতি ‘দুবাই পালিয়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক’ শিরোনামে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। তবে এ খবর সঠিক নয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান গ্রেপ্তার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এ ছবি তৈরি করা হয়েছে।
ইনানের মতো ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলে সে বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হতো। আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ, গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্তসূত্রে এমন কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আড়ালে রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইনানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, প্রচারিত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ব্যক্তিদের মুখাবয়বে ও পারিপার্শ্বিক উপাদানেও কিঞ্চিৎ অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘GLFF (2024)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল আহমেদ শাওনকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে দুবাই পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আলোচিত ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইনান গ্রেপ্তার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই-তৈরি।
মন্তব্য করুন