স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আদালতেই থামল বাংলাদেশকে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ছবি : সংগৃহীত

এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল এবার ক্রিকেট মাঠের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ পড়তে যাচ্ছে বড় কোনো ঝামেলায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল আদালতে। কিন্তু কয়েক মিনিটের শুনানিতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বিষয়টি যতটা চাঞ্চল্যকর শোনাচ্ছিল, আইনি বাস্তবতায় ততটাই ফাঁপা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট বাংলাদেশকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলে। আদালতের মতে, এমন দাবি বিচারিক নয় এছাড়াও এটি সরাসরি পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত, যা একান্তভাবেই নির্বাহী বিভাগের বিষয়।

আদালত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে ভারতীয় আদালত কোনো বিদেশি রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে নির্দেশ জারি করতে পারে না। ফলে আইনের চোখে এই আবেদন টেকার মতো নয়।

বেঞ্চ আরও উল্লেখ করে, মামলায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে—যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এখতিয়ার নেই।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত আবেদনকারীকে সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের মামলা জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। প্রয়োজনে আর্থিক জরিমানার পথেও যেতে পারে আদালত—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।

বিসিসিআইয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে উপস্থিত থেকে বলেন, বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে মামলার পক্ষভুক্ত করাটাই আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

আবেদনকারী নিজেকে আইন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করলে বেঞ্চ তা সরাসরি খারিজ করে দেয়। আদালতের বক্তব্য—ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত অন্য দেশের, বিশেষ করে পাকিস্তানের, বিচারিক নজির অনুসরণ করে না।

একাধিক আপত্তি ও প্রশ্নের মুখে শেষ পর্যন্ত আবেদনকারী মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আদালত তা মঞ্জুর করে মামলাটি প্রত্যাহৃত হিসেবে খারিজ করে দেয় এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক আইনি উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / আদালত প্রাঙ্গণে যেসব দাবি জানাচ্ছেন রায় শুনতে আসা মানুষ

মেয়ে হত্যার রায় শুনতে আদালতে রামিসার বাবা 

শাপলা চত্বর হত্যা মামলা / দীপু মনি-ফারজানা রূপাসহ ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির

বিশ্বকাপ ভিসা প্রত্যাখ্যান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা ইরানের

ট্রেনের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

এক কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের বাধা অতিক্রমের গল্প

খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, বোরকা পরা নারীকে খুঁজছে পুলিশ

১০

১১টায় রায় ঘোষণা, একটি ন্যায়বিচারের জন্য উন্মুখ পুরো জাতি

১১

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের

১২

ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ধসে জনদুর্ভোগ চরমে

১৩

ধান কাটতে বলায় গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

১৪

মেট্রোরেল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আজ থেকেই কার্যকর

১৫

বিসিবিতে আজ আমেজহীন আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার নির্বাচন

১৬

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলা: ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন আজ

১৭

রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮

জব্দ ইরানি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মিত্র দেশগুলোকে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

১৯

তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

২০
X