

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে দূরপাল্লার ড্রোন হামলাগুলোর একটি চালিয়ে রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলা করেছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে বাল্টিক সাগর উপকূলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওমস্ক তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগে। গত বছর শোধনাগারটিতে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টন বা দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়েছিল।
ওমস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভিটালি খোতসেনকো হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ইউক্রেন আরও জানিয়েছে, রাতভর বাল্টিক সাগরের উস্ত-লুগা ও ভিসোৎস্ক বন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার তেল রপ্তানির জন্য এই দুটি বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কালুগা ও ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এদিকে পাল্টা হামলায় রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালায়। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, এতে অন্তত ২২ জন নিহত এবং সাত শিশুসহ ৫৬ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট থাকায় কিয়েভের দিকে ছোড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি।
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি দ্রুত আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করা সম্ভব।
মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হতে পারে।
সূত্র: শাফাক নিউজ