

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনায় ফের মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করেছে ভারত। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানাল নয়াদিল্লি।
শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমেরিকা) নাগরাজ নাইডু দিল্লির মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান জেসন মিকসকে তলব করেন। খবর এনডিটিভি
বৈঠকে ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় ভারতের গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ‘মারাত্মক ও প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লির মতে, এ ধরনের হামলা শুধু মানবিক দিক থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি।
ভারতীয় কর্মকর্তারা মার্কিন কূটনীতিককে অনুরোধ করেছেন, ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের উদ্বেগ দ্রুত পৌঁছে দিতে এবং ভবিষ্যতে বেসামরিক নাবিকদের জীবনহানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে।
ভারতের অভিযোগ, গত চার দিনের মধ্যে ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় ক্রু বহনকারী তিনটি বিদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন সামরিক হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (১১ জুন), যখন গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী বিটুমিন ট্যাংকার ‘এমটি জলবীর’ হামলার মুখে পড়ে। জাহাজটিতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
এর আগে ১০ জুন পালাউয়ের পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার ‘এমটি সেত্তেবেলো’-তে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। প্রথমে তারা নিখোঁজ ছিলেন, পরে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ৮ জুন আরেকটি পালাউ-নিবন্ধিত ট্যাংকার ‘এমটি মারিভেক্স’-এ হামলার ফলে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে। তবে ওই ঘটনায় থাকা ২৪ ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারত তার নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এমটি সেত্তেবেলোতে হামলার পরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ধারাবাহিক হামলার বিষয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের একমাত্র পথ সংলাপ ও কূটনীতি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানি তেল পরিবহনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অভিযানের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ‘এমটি জলবীর’ ইরানি তেল পরিবহনের চেষ্টা করে মার্কিন নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন করছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা না মানায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।