

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের কোরিয়া জেলায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাক দিয়ে ঘিরে একটি ফর্চুনার এসইউভি গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে জীবন্ত পুড়ে মারা যান বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং। এ ঘটনায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) গভীর রাতে সোনহাট থানার আওতাধীন নওগাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গাড়ির ভেতরেই পুড়ে মারা যান ভারত সিং। হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিরেন্দ্র সিং। নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন শিক্ষক নাগেন্দ্র সিং, যিনি ভারত সিংয়ের চাচাতো ভাই ছিলেন। এ ছাড়া আহত ময়াঙ্ক সিং বর্তমানে বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, বালু উত্তোলনসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন ভারত সিং। কিন্তু তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে হামলা চালানো হয়।
ঘটনার পর পুলিশ অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মান্নু ত্রিপাঠীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকায় বালু উত্তোলনের ইজারা ছিল ভারত সিংয়ের পরিবারের হাতে। এরপর থেকেই বালু পরিবহন ও অবৈধ টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে ভারত সিংয়ের পক্ষ এবং বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। বিরোধটি কয়েক মাস ধরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার সময় ভারত সিং ও তার সহযোগীরা যে ফর্চুনার গাড়িতে ছিলেন, সেটিকে সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে আটকে দেওয়া হয়। পরে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একসময় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ভূপেশ বাঘেল সরকারের আমলে বিজেপিতে যোগ দেন ভারত সিং। স্থানীয় রাজনীতি ও বালু ব্যবসায় তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নিহতের পরিবার ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, এটি তাৎক্ষণিক সংঘর্ষ নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরেশা চৌবে বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ত্রিপাঠী ও ঠাকুর গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। সেই সময় ফর্চুনার গাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়।
সোনহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনোদ পাসওয়ানও দুই পক্ষের মধ্যে বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং এর জেরেই এই সহিংস ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াদে বলেন, কোরিয়া জেলার ইতিহাসে এমন নৃশংস ঘটনা আগে ঘটেনি। সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরোও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।