

চীন, ভারত, ইরাক, দক্ষিণ কোরিয়া ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে ইরানের বিপুল অঙ্কের অর্থ ও সম্পদ আটকে রয়েছে। এসব সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে দাবি করছে ইরান।
বুধবার (১৭ জুন) গালফ নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দাবি, বিদেশে তাদের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ আটকে রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত অঙ্ক কিছুটা কম হতে পারে।
ইরানের সবচেয়ে বেশি অর্থ আটকে আছে চীনে। বিভিন্ন সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। বছরের পর বছর চীনে তেল রপ্তানির মাধ্যমে এ অর্থ জমা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে।
ইরানের ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ইরাকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ অর্থ মূলত ইরান থেকে বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির বিপরীতে জমা হয়েছে। তবে মার্কিন বিধিনিষেধের কারণে ইরাক এ অর্থ সহজে হস্তান্তর করতে পারছে না।
অন্যদিকে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার করে ইরানি অর্থ আটকে আছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে দেশ দুটি ছিল ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। পরে ওই তেল আমদানির অর্থ স্থানীয় ব্যাংকগুলোতে আটকে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অর্থের বেশিরভাগই ইরানের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ রপ্তানির আয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যাংক ও সরকার সরাসরি এ অর্থ তেহরানে পাঠাতে পারছে না। কিছু ক্ষেত্রে অর্থ কেবল খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যায়। আবার অনেক তহবিল মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রায় সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমান আলোচনায় আটকে থাকা সম্পদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব অর্থ হাতে পেলে ইরান তার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ইরানি তেল রপ্তানি বৃদ্ধি, আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলার পথও উন্মুক্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদের ভবিষ্যৎই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সবচেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।